বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভাতেও (Kolkata Municipal Corporation) টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। চেয়ারপার্সন মালা রায় পুরসভার বৈঠক ডাকলেও ঘর খোলা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। সেই জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) অবধি। এবার সেই মামলাতেই বড় নির্দেশ দিল উচ্চ আদালত।
কী নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)?
গত ২২ মে অধিবেশন ডেকেছিলেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। তবে পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান, অধিবেশন বাতিল। অভিযোগ, অধিবেশনে যোগ দিতে তৃণমূল কাউন্সিলররা সেদিন পুরসভায় গেলেও অধিবেশন কক্ষ তালাবন্ধ ছিল। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ঘরের বাইরে বসেই সভা করেন তাঁরা।
এরপর এই নিয়ে আদালতে মামলা হয়। এবার তাতেই বড় নির্দেশ দিল বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরী ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। হাইকোর্টের নির্দেশ, পুর আইন অনুযায়ী কেএমসি-র চেয়ারপার্সন মালা রায় মাসিক বৈঠক ডাকতে পারবেন।
একইসঙ্গে গত ২২ মে-র মাসিক বৈঠকের বৈধ রেজোলিউশন কপি হলফনামার আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর জন্য আগামী ৯ জুন অবধি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
এদিকে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের পর পুরসভার মেয়র পারিষদের বৈঠক বাতিল হয়েছিল। সরকারের তরফে কেএমসি-র সচিবও বদলে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গেই গত ২২ মে ডাকা বৈঠকে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও।

তিনি বলেছিলেন, “অধিবেশন বাতিলের পর কলকাতায় যদি কোনও বিপর্যয় হয়, তার দায় কে নেবে? এভাবে ইচ্ছা মতো অধিবেশন বাতিল করা যায় না। সচিব নয়, কেউ যদি অধিবেশন বাতিল করতে পারেন চেয়ারপার্সন। অধিবেশন যেভাবে বাতিল করা হয়েছিল, সেটা গণতন্ত্রের অপমান”।
এরপর এই ইস্যু কলকাতা হাইকোর্ট অবধি গড়ায়। সেই মামলাতেই এদিন বড় নির্দেশ দিয়ে দিল উচ্চ আদালত। বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।













