বাংলাহান্ট ডেস্ক: মার্কিন আদালতের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপে কিছুদিনের জন্য শুল্কযুদ্ধের গতি থমকে গেলেও ফের আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ফিরলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর নিশানায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (European Union)। বাণিজ্য চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা সমস্ত গাড়ি ও ট্রাকের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন তিনি। জানা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই এই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
এবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (European Union) ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প:
গত শুক্রবার নিজের সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই বিষয়ে কড়া বার্তা দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ধারাবাহিকভাবে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত মানতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার শিল্পক্ষেত্র ও কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য মার্কিন বাজারে সুবিধা দেওয়া হলেও, সেই সুযোগের অপব্যবহার হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির পক্ষে ক্ষতিকর।
আরও পড়ুন:কোন জেলায় কত জন কাউন্টিং অবজার্ভার? ভোটগণনার আগে তালিকা প্রকাশ কমিশনের
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপীয় অটোমোবাইল ও যন্ত্রাংশের উপর ১৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছিল। তবে, ট্রাম্পের অভিযোগ, বিশেষ করে জার্মানিসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশ এই শর্ত যথাযথভাবে পালন করছে না। তাঁর দাবি, চুক্তির নিয়ম লঙ্ঘন করে ইউরোপীয় সংস্থাগুলি অতিরিক্ত সুবিধা নিচ্ছে।
নয়া শুল্ক কার্যকর হলে আমেরিকার বাজারে ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে। মার্সিডিজ-বেঞ্চ, বিএমডব্লিউ এবং অডির মতো সংস্থাগুলির গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। ফলে এর প্রভাব পড়বে সরাসরি মার্কিন গ্রাহকদের উপর। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, যেসব বিদেশি সংস্থা আমেরিকার মাটিতে উৎপাদন করবে, তাদের ক্ষেত্রে এই বাড়তি শুল্ক প্রযোজ্য হবে না, যা স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে পারে।

আরও পড়ুন: ভারতের ডিফেন্স হাব হতে চলেছে এই রাজ্য! ফাইটার জেট প্রকল্পের জন্য ১ লক্ষ কোটি বিনিয়োগের অনুমান
অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union)। ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী সমস্ত শর্তই তারা মেনে চলছে এবং নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্যও সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ ভিত্তিহীন। পাশাপাশি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এই শুল্ক আরোপ করে, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। এতে দুই অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।












