বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরমুজ দখলে ময়দানে নামছে আমেরিকার জলদানব ত্রিপোলি (USS Tripoli)। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা ক্রমশ চরমে পৌঁছেছে। ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে নামাজ পর থেকেই একের পর এক বড় চাপে পড়েছে আমেরিকা। বিশেষ করে বিশ্বের ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে যাওয়ায় গোটা বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। কারণ বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ তেল পরিবহণের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, যার ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা বিপাকে পড়েছেন।
তরমুজ প্রণালী উদ্ধারে ইরানের উদ্দেশ্যে রওনা আমেরিকার ত্রিপোলির (USS)
এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীকে মুক্ত করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী পাল্টা আঘাত হানার লক্ষ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি পাঠাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক উভচর যুদ্ধজাহাজ USS Tripoli-কে দক্ষিণ চিন সাগর থেকে ওই অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি আরও একটি যুদ্ধজাহাজ USS Boxer-কেও পাঠানো হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে স্পষ্ট করে তুলছে।
আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবাদীদের আঁতুড়ঘর! লজ্জার রেকর্ড গড়ে ‘গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স’-এর শীর্ষে পাকিস্তান
মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যেই মোতায়েন রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS আব্রাহাম লিঙ্কন। আগে ওই অঞ্চলে থাকা USS জেরাল্ড আর. ফোর্ড-কে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সরিয়ে নেওয়ার পর এখন আব্রাহাম লিঙ্কনের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালাতে যোগ দিচ্ছে নতুন রণতরীগুলি। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই রণতরী মিলিয়ে প্রায় ৪০০০ নৌসেনা, একাধিক যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বড়সড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা।
USS ত্রিপোলির বিশেষত্ব হল এটি একটি শক্তিশালী উভচর যুদ্ধজাহাজ, যা আকাশপথে হামলা এবং মেরিন সেনা মোতায়েন—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। প্রায় ৮৪৪ ফুট দীর্ঘ এই জাহাজে F-35B স্টিলথ ফাইটার জেট, MV-22 Osprey এবং বিভিন্ন অ্যাটাক হেলিকপ্টার মোতায়েন করা সম্ভব। এতে প্রায় ২৫০০ সেনা বহনের ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে প্রায় ২০০০ নৌসেনা রয়েছে। এর নকশা এমনভাবে তৈরি, যাতে বেশি পরিমাণ বিমান জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন! মিসাইল হামলার আশঙ্কায় ১১ টি আকাশপথ এড়িয়ে চলার নির্দেশ DGCA-র
এদিকে, যুদ্ধের ২১ দিন পার হলেও সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ নেই। ইরানের পাল্টা হামলায় একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীরও ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। পাশাপাশি ইজরায়েল-এর হাইফা তেল শোধনাগার-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তেল ও গ্যাস স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে আমেরিকা, যা আগামী দিনে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাই বাড়াচ্ছে (USS Tripoli)।












