বাংলা হান্ট ডেস্ক : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ সময় পর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে বিজেপি (BJP)। তবে এই জয়ের আবহের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোট-পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবার এই পরিস্থিতিতে হুঁশিয়ারি দিলেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।
ভোট পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে শমীক (Shamik Bhattacharya)
সোমবার ফল ঘোষণার দিন ২৯৩টি আসনের গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর দেখা যায়, বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে গেছে ৮০টি আসন। একটি আসনের ফলাফল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হয়নি। ফল ঘোষণার পর থেকেই একাধিক এলাকায় হিংসার অভিযোগ উঠতে শুরু করে। কোথাও তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর আবার কোথাও রাস্তায় বচসা, মারধর ও অশান্তির খবর মিলেছে।
এই পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। ভোট পরবর্তী হিংসা সামাল দিতে বিজেপির পক্ষ থেকে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে লিখিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, বিরোধী দলের বুথ, কার্যালয় বা সাইনবোর্ড দখল করা যাবে না। পাশাপাশি অটো, টোটো স্ট্যান্ড বা বাজার দখলের মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি শিমীক ভট্টাচার্য এ বিষয়ে সরাসরি বলেন, “আমি একটা কথা পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি, বিজেপির পতাকা নিয়ে কোথাও যদি কোনও রাজনৈতিক হিংসা চলে, কোনও তৃণমূল অফিসের উপর আক্রমণ হয়, মুখ্যমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যদি কদর্য ভাষা ব্যবহার করা হয়, তাকে দল থেকে বার করে দেব। সেই অধিকার আমার পার্টির সংবিধান আমাকে দিয়েছে। প্রশাসনকে দেখতে হবে যে বিজেপির পতাকা নিয়ে যদি টোটো স্ট্যান্ড, অটোস্ট্যান্ড থেকে যদি টাকা চায়, কঠোরতম ব্যবস্থা নেবেন। তাকে গ্রেফতার করবেন। কোনও রঙ দেখে কাজ করবেন না। কোনও রাজনৈতিক হিংসার জায়গা পশ্চিমবঙ্গে নেই। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে বলেই মানুষ আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন।”
এদিকে শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। ভোটের ফল প্রকাশের পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো তথ্য নিয়েও সতর্ক করেছে তারা। কলকাতা পুলিশের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, শান্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ভুয়ো খবর ছড়ালে, কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন : বারবার তলব উপেক্ষা, শেষমেশ কলকাতার পুলিশকর্তা শান্তনুর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ ইডির
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যেন অশান্তি না বাড়ে, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন ও আগত সরকারের এই কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।












