বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বছরের পর বছর ধরে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র (Dearness Allowance) দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন এ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের একাংশ। তবে লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না। ফারাক বাড়ছে দিন দিন। ওদিকে পঞ্চম বেতন কমিশনের অধীনে ডিএ মামলার (DA Case) শুনানি শেষ হলেও রায় বেরোয় নি। জানুয়ারি মাসেও ডিএ মামলার রায়দান হল না। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মামলার চূড়ান্ত শুনানি সমাপ্ত হয় সুপ্রিম কোর্টে। সবমিলিয়ে ক্ষোভ, হতাশা ক্রমেই বাড়ছে সরকারি কর্মীদের।
বাজেটে ঘোষণা হোক দু’তিন কিস্তি DA, উঠল দাবি | Dearness Allowance
এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সকলের নজর রাজ্য বাজেটের দিকে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারী পেশ হবে রাজ্য বাজেট। যদিও ভোটমুখী রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা হবে না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিন মাসের জন্য ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট পেশ করা হবে। তবে সেই বাজেটেও ডিএ বৃদ্ধির আশা রাখছেন সরকারি কর্মীরা।
গত কয়েক বছরের ট্রেন্ড বজায় রেখে এবারও ডিএয়ের ঘোষণা করা হবে বলে মত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের। বিগত কয়েক বছরে বাজেটেই ডিএ-র ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ২০২৩ সালের বাজেটে তিন শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। এরপর ২০২৪ সালের চার শতাংশ ডিএ বাড়িয়েছিল মমতা সরকার। ২০২৫ সালেও সেই ট্রেন্ড বজায় ছিল। বাজেটে চার শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল রাজ্য।
তবে শুধুমাত্র এক কিস্তি দিলে হবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এক কিস্তির (তিন শতাংশ বা চার শতাংশ) পরিবর্তে একলপ্তে দুই বা তিন কিস্তির ডিএ যাতে প্রদান করা হয় সেই দাবি তুলছেন সরকারি কর্মীদের একাংশ। এই বিষয়ে বড় কথা বলেছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়।
মলয়বাবু বলেন, ‘অধিকাংশ রাজ্য সরকার ১৯ কিস্তি বা ৫৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা দিচ্ছে। নয়া বেতন কমিশন গঠন হয়ে গিয়েছে। সেখানে আমরা মাত্র ১৮% ডিএ’তে পড়ে আছি। যদি এই ষষ্ঠ বেতন কমিশনের ডিএও আমাদের রাজ্যের সরকার দু’তিন কিস্তি একসঙ্গে দেয়, তাহলেও তো কিছুটা সুরাহা হয়। আগামী ৫ তারিখ বাজে, আমরা সেদিকেও তাকিয়ে আছি। জানি না কী হবে।’

আরও পড়ুন: ‘আমি খুবই ধন্য..,’ মমতার মামলায় কমিশনকে নোটিস ইস্যু, একাধিক কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
উল্লেখ্য, বর্তমানে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় ১৮ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন এ রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। সবমিলিয়ে ফারাক ৪০%। আবার পশ্চিমবঙ্গে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় দাঁড়িয়ে এ বছরই সপ্তম বেতন কমিশন গঠন হতে পারে, এবং রাজ্য বাজেটে সেই ঘোষণা হতে পারে বলেও জল্পনা চলছে।












