বাংলা হান্ট ডেস্ক : জমি কেনার পর দেখা গেল, নথিতে যে ধরনের জমির উল্লেখ রয়েছে, বাস্তবে সেটি অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন বিভ্রান্তি এড়াতে জমির রেকর্ডে নতুন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government)। এতদিন খতিয়ানে জমির পরিচয় বোঝাতে যে সব পুরনো শব্দ ব্যবহার করা হত, সেগুলির অর্থ সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় পরিষ্কার থাকত না। এই সমস্যা কমাতে এবার জমির রেকর্ডে যুক্ত হচ্ছে ‘সুপ্রা ক্যাটেগরি’ নামে একটি নতুন বিভাগ। রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর জমির প্রচলিত শ্রেণিগুলিকে ১৬টি বৃহত্তর ভাগে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জমির রেকর্ডে নতুন বিভাগ ব্যবহার করবে সরকার(West Bengal Government)
এই পরিবর্তন কার্যকর করতে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিকর্তা এবং যুগ্ম ভূমি সংস্কার কমিশনারের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থার পাশাপাশি ‘ই-ভূচিত্র’ পোর্টালেও প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। নতুন কলামে জমির বৃহত্তর শ্রেণি উল্লেখ থাকলেও খতিয়ানে আগে থেকে লেখা জমির পরিচয় মুছে ফেলা হবে না। অর্থাৎ, পুরনো বিবরণ বজায় রেখেই তার পাশে জমিটি কোন মূল বিভাগের অন্তর্গত, তা জানানো হবে। এর ফলে জমির নথি যাচাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তথ্য আরও সহজে বোধগম্য হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন কাঠামোয় জমিকে কৃষি, কৃষি-সংলগ্ন, শিল্প, বাণিজ্য, বসতবাড়ি, জলাশয়, জনকল্যাণমূলক বা সাধারণ সুবিধা, প্রাতিষ্ঠানিক, ফলের বাগান, ধর্মীয় স্থান, বনভূমি, নদী, পতিত জমি, মাঠ, চা বাগান এবং অন্যান্য—এই ১৬টি ভাগে রাখা হবে। এই ব্যবস্থায় জমির পুরনো নামের সঙ্গে তার বৃহত্তর শ্রেণির সংযোগ তৈরি হবে। উদাহরণ হিসেবে, শালী, শুনা, ডাঙা, আউশ ও আমন নামে পরিচিত জমিগুলি কৃষি বিভাগের আওতায় পড়বে। বাস্তু, বসতভিটে, আবাসন, টাউনশিপ, কোয়ার্টার ও হস্টেলের মতো জমির পরিচয় নথিতে বসতবাড়ি হিসেবে চিহ্নিত হবে। আবার চালকল, কোল্ড স্টোরেজ, কারখানা, ক্রাশিং ইউনিট, কাঠ চেরাই কল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মতো জায়গাকে শিল্প শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শুধু কৃষি বা আবাসন নয়, সরকারি ও জনপরিষেবার সঙ্গে যুক্ত জমির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, গ্রন্থাগার, ডাকঘর, রেল স্টেশন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং থানাকে প্রাতিষ্ঠানিক বিভাগে রাখা হবে। রাস্তা, সেতু, বাসস্ট্যান্ড, সাধারণ পার্ক, শ্মশান, কবরস্থান ও বর্জ্য ফেলার জায়গা চিহ্নিত হবে জনকল্যাণমূলক শ্রেণিতে। অন্যদিকে, পুকুর, দিঘি, খাল, জলাভূমি, ঝোরা ও নয়ানজুলির মতো জলসম্পদকে জলাশয় বিভাগের অধীনে আনা হবে।

আরও পড়ুন : নভেম্বরে নাও ঢুকতে পারে অন্নপূর্ণা যোজনা! কোন মহিলারা ৩ হাজার টাকা পাবেন না জানুন
নতুন কলাম চালুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শ্রেণির উল্লেখ বদলালেই জমির আইনগত অবস্থার পরিবর্তন হবে না। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, ‘সুপ্রা ক্যাটেগরি’ জমির মালিকানা, পরিমাপ কিংবা ব্যবহারের অধিকার নিজে থেকে বদলাবে না। জমির প্রকৃত ব্যবহার পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে। তাই নতুন শ্রেণিবিভাগ জমির পরিচয় বুঝতে সহায়ক হলেও জমি কেনার আগে মালিকানা এবং অন্যান্য আইনি নথি যাচাই করার প্রয়োজন থাকছে। খতিয়ানে নতুন কলাম যুক্ত করার মাধ্যমে জমির শ্রেণিবিভাগকে আরও স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে রাজ্য। এর ফলে জমির নথি বুঝতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও স্বচ্ছতা বাড়তে পারে।














