পঞ্চায়েতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, প্রধানদের আর্থিক ক্ষমতা সীমিত করবে রাজ্য!

Published on:

Published on:

West Bengal governmentis going to bring big changes in Panchayats
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প চালুর প্রস্তুতির মধ্যেই পঞ্চায়েত প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েত স্তরে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় এবার আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিতেই বদল আনতে চাইছে রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত হাসপাতাল প্রকল্প নিয়েও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে প্রশাসন।

পঞ্চায়েত নিয়ে কী পরিকল্পনা সরকারের(West Bengal Government)

পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে থাকা আর্থিক অনুমোদনের ক্ষমতা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে সেই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টদের। প্রশাসনের মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে সরকারি আধিকারিকদের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন ও অনুমোদন পরিচালিত হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ অনেকটাই কমবে। এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ওড়িশায় চালু থাকা প্রশাসনিক কাঠামোকে অনুসরণ করা হচ্ছে বলেই খবর।

উল্লেখ্য, এই পরিবর্তন কার্যকর করতে ‘west bengal panchayet act 1973’-এর একাধিক ধারায় সংশোধন আনার প্রস্তুতি চলছে। আইন সংশোধনের জন্য সরকার প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করতে পারে, অথবা বিধানসভায় সংশোধনী বিল এনে নতুন বিধান কার্যকর করতে পারে।

এতদিন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক দায়িত্ব কেন্দ্রীভূত ছিল। ১০০ দিনের কর্মসূচি, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের অনুদান, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান, বিল অনুমোদন এবং অর্থ ছাড়—সব ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রধানদের কাছেই থাকত। বছরের পর বছর এই ব্যবস্থাকে ঘিরে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ ওঠে।

West Bengal governmentis going to bring big changes in Panchayats

আরও পড়ুন :ট্রেন লেটের চিন্তা শেষ, এসির আরামে শুয়ে শুয়ে চলুন দিঘা, বড় উদ্যোগ রেলের

বিশেষ করে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। যদিও শ্রমিকদের মজুরি সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হতো, তবুও সেই অর্থ ছাড়ের প্রশাসনিক অনুমোদন পঞ্চায়েত প্রধানদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই অনুমোদনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারি আধিকারিকদের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।একদিকে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় আর্থিক জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ, অন্যদিকে বৃহৎ স্বাস্থ্য প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি— দুই পদক্ষেপই আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।