ভারতে ফিরলে রয়েছে নির্যাতনের ভয়! প্রত্যর্পণ আটকাতে আদালতে কী দাবি করলেন নীরব মোদী?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলহান্ট ডেস্ক: লন্ডনের হাই কোর্টে পলাতক হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদির (Nirav Modi) প্রত্যর্পণ মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। রয়্যাল কোর্টস অফ জাস্টিসে দিনভর চলা এই শুনানিতে বিচারপতি জেরেমি স্টুয়ার্ট স্মিথ এবং বিচারপতি রবার্ট জের বেঞ্চ জানায়, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যত দ্রুত সম্ভব রায় ঘোষণা করা হবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে ভারত ও ব্রিটেন—উভয় দেশের নজর এখন আদালতের দিকে।

প্রত্যর্পণ আটকাতে আদালতে কী দাবি করলেন নীরব মোদী (Nirav Modi)?

শুনানির সময় নীরব মোদির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভারতে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাঁর আইনজীবীরা আদালতে জানান, ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে পারে। যদিও প্রত্যর্পণ রুখতে দেওয়া অন্যান্য যুক্তিগুলি আদালতে বিশেষ গুরুত্ব পায়নি, তবুও এই ‘নির্যাতনের আশঙ্কা’কে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে আইনি লড়াই জারি রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:কাঁচা মাছ-মাংস থেকে চারাগাছ, এই সমস্ত জিনিস নিয়ে মেট্রোয় উঠলেই জরিমানা! জারি কড়া নিষেধাজ্ঞা

উল্লেখ্য, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক-সহ একাধিক ভারতীয় ব্যাঙ্কে বিপুল অঙ্কের জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান নীরব মোদি। একই মামলায় অভিযুক্ত তাঁর আত্মীয় মেহুল চোকসিও বিদেশে পলাতক হন। ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ লন্ডনে একটি ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় গ্রেপ্তার হন নীরব মোদি এবং তারপর থেকেই তিনি ব্রিটেনে বন্দি রয়েছেন।

এর আগে আদালতে নীরব দাবি করেছিলেন, তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে এবং আইনজীবীর ফি দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্যও তাঁর নেই। যদিও ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, তিনি এখনও বিভিন্ন উপায়ে তাঁর সম্পত্তি বিক্রি রুখতে চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর একটি ফ্ল্যাট বিক্রির অনুমতি দিয়েছে আদালত, অন্যদিকে ভারতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তাঁর আরও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে।

What did Nirav Modi argue in court to prevent his extradition?

আরও পড়ুন: জ্বালানি সঙ্কটের জেরে বাতিল সামরিক কুচকাওয়াজ! শোচনীয় অবস্থা পাকিস্তানের

বর্তমানে নীরব মোদির প্রত্যর্পণ নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত সরকার। আদালতের রায় কোন দিকে যায়, তার উপরই নির্ভর করছে এই বহুল আলোচিত মামলার ভবিষ্যৎ। বিশ্লেষকদের মতে, যদি প্রত্যর্পণের অনুমতি মেলে, তবে এটি আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।