বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বড় নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পূর্বের প্রস্তাব বাতিল করে, একই এলাকায় এখন বাংলাদেশের নিজস্ব সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ডিফেন্স ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে।
ভারতের জন্য বরাদ্দ জমিতে সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের (Bangladesh):
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে মিরসরাইয়ের প্রায় ৮৫০ একর জমিতে। ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেজা জানায়, দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে স্বনির্ভর ও শক্তিশালী করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলের মাধ্যমে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে এবং বিদেশি বাজারে রপ্তানির দিকেও নজর দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: আর মাত্র ৬ দিন পরই এক কিস্তি DA-র ঘোষণা? তার আগে আসরে সরকারি কর্মীরা, মঙ্গলেই…
কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং বেজা যৌথভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য বেশ কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সাথে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল শুধু প্রতিরক্ষা খাতকেই শক্তিশালী করবে না, পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চাহিদাভিত্তিক উৎপাদনের পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: স্বস্তির নিঃশ্বাস মধ্যবিত্তের! কিছুটা কমলো হলুদ ধাতুর দর, জানুন আজকের লেটেস্ট রেট
এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সরকার আরও কয়েকটি শিল্প প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমিতে একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা পাশ করা হয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়ার একটি চিনিকল এলাকায় শিল্প উদ্যান প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য বাড়িয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।












