বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির আবহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কেন্দ্রের। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আবেদন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তাঁর বক্তব্য, বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা আমদানি করতে গিয়ে দেশের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হচ্ছে। সেই চাপ কমাতেই আপাতত সোনা কেনায় সংযমের বার্তা দিয়েছেন তিনি। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই আবেদন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
দেশবাসীকে কেন এক বছর সোনা কিনতে বারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী (Narendra Modi)?
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার কমেছে প্রায় ৭৭৯ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে দেশের ফরেক্স ভান্ডারে রয়েছে ৬৯ হাজার ৬৯ কোটি ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় আমদানির খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি সোনা আমদানিতেও বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। ফলে অর্থনীতির উপর চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
বিশ্বে সোনা কেনার ক্ষেত্রে ভারত অন্যতম বৃহৎ বাজার। প্রতি বছর ভারতে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা কেনা হয়। অথচ দেশের নিজস্ব উৎপাদন মাত্র ১ থেকে ২ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ প্রয়োজনের অধিকাংশ সোনাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ সোনা আমদানি হলেও তার সরাসরি প্রভাব শিল্পোৎপাদন বা উৎপাদনশীল ক্ষেত্রে পড়ে না। বরং বৈদেশিক মুদ্রার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ভারতে আমদানি হওয়া মোট পণ্যের প্রায় ৯ শতাংশই সোনা। অপরিশোধিত তেলের পর সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় এই মূল্যবান ধাতুই।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৭২০০ কোটি ডলারের সোনা আমদানি করেছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকার সমান। আগের অর্থবর্ষে সেই পরিমাণ ছিল ৫৮০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সোনা আমদানি বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। বর্তমানে সোনা আমদানির উপর শুল্ক এবং অন্যান্য লেভি মিলিয়ে প্রায় ৬ শতাংশ কর ধার্য রয়েছে। তবু বিয়ে, উৎসব কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানে সোনা কেনার প্রবণতা কমেনি। কেন্দ্রের একাংশের মতে, এই প্রবণতায় সাময়িক লাগাম টানা গেলে দেশের ফরেক্স ভান্ডারের উপর চাপ অনেকটাই কমবে।

আরও পড়ুন: ট্যারিফ যুদ্ধ ভুলে ৩ দিনের চিন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প! জিনপিংয়ের সঙ্গে হবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মোদী (Narendra Modi) দেশবাসীর উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, “এক সময়ে যুদ্ধ বা সঙ্কটকালে মানুষ দেশহিতে সোনা দান করতেন। এখন দান করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু আগামী এক বছর কোনও অনুষ্ঠানেই সোনার গয়না না কেনার সংকল্প নিতে হবে।” তাঁর বক্তব্য, দেশহিতেই আপাতত সোনা কেনা কমানো জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, জ্বালানি আমদানির খরচ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন্দ্রের এই বার্তা মূলত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশলেরই অংশ।













