ট্যারিফ যুদ্ধ ভুলে ৩ দিনের চিন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প! জিনপিংয়ের সঙ্গে হবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

Published on:

Published on:

The ice is melting between US-China.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাসের পর মাস ধরে চলা ট্যারিফ যুদ্ধ এবং বাণিজ্যিক টানাপড়েনের আবহে এবার সম্পর্কের বরফ গলাতে চিন (US-China) সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিন দিনের এই সফরে মূল লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক সমঝোতার পথ খুলে দেওয়া। একই সঙ্গে আমেরিকার অর্থনৈতিক শক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার দিকেও জোর দিতে চান ট্রাম্প। গত কয়েক মাসে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। চিনা পণ্যের ওপর আমেরিকা ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপায়, পাল্টা আমেরিকান পণ্যে ১২৫ শতাংশ ট্যারিফ বসায় বেজিং।

বরফ গলছে আমেরিকা (US-China) চিনের সম্পর্কে:

ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অফ ট্রেড’ এবং ‘বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্ট’ গঠন। এই দুই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা সরাসরি সরকারি স্তরে আলোচনা করে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দেশই এমন কিছু ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে চাইছে, যেখানে পারস্পরিক স্বার্থ বজায় রেখে ব্যবসা ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানো সম্ভব। কৃষি, জ্বালানি, বিমান শিল্প এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও নতুন চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:মাসে ২৫০০ টাকা! আজই লঞ্চ হতে পারে মহিলাদের জন্য সরকারের বড় প্রকল্প

বুধবার রাতে ট্রাম্পের বেজিং পৌঁছনোর কথা। বৃহস্পতিবার সকালে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তিনি। পরে চিনা সরকারের পক্ষ থেকে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিকেলে দুই রাষ্ট্রনেতা একসঙ্গে বেজিংয়ের ঐতিহাসিক টেম্পল অফ হেভেন পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যায় থাকবে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ। শুক্রবার সকালে আরও একটি দফা বৈঠক এবং মধ্যাহ্নভোজের পর চিন সফর শেষ করে আমেরিকায় ফিরবেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউস সূত্রে দাবি, এই সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, আমেরিকার শ্রমিক, কৃষক এবং শিল্পক্ষেত্রের স্বার্থ রক্ষা করেই তারা নতুন বাণিজ্য সমঝোতার পথে এগোতে চায়। একই সঙ্গে বছরের শেষে শি জিনপিং এবং তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর এই সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে।

The ice is melting between US-China.

আরও পড়ুন: যৌনপল্লিতেও চলত তৃণমূলের তোলাবাজি! বিজেপি আসায় মিষ্টিমুখ শেওড়াফুলির যৌনকর্মীদের

প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ ট্রেড’-এর কাজ হবে আমদানি-রপ্তানি, বাণিজ্য ঘাটতি, শুল্ক এবং ট্যারিফ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে সরাসরি আলোচনা করা। অন্যদিকে ‘বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্ট’ দেখবে বিনিয়োগের দিকটি। কোন দেশের সংস্থা কোথায় কতটা বিনিয়োগ করতে পারবে, প্রযুক্তিগত বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কী হবে এবং বিদেশি কোম্পানির জন্য নিয়ম কতটা সহজ করা যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগকে আলাদা কাঠামোয় এনে নতুন করে সম্পর্কের ভিত্তি গড়ার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন ও বেজিং (US-China)।