পাকিস্তানের শেয়ার বাজারে একী কাণ্ড! বন্ধ রাখতে হল ট্রেডিং, কারণ জানলে অবাক হবেন

Published on:

Published on:

Why should trading be stopped in Pakistan Stock Exchange?
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সোমবার পাকিস্তানের শেয়ার বাজারে (Pakistan Stock Exchange) তীব্র পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ওই দেশের প্রধান সূচক, কেএসই-৩০ ইনডেক্স ৯.৬ শতাংশ কমে যায়। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পতন এতটাই তীব্র ছিল যে ৪৫ মিনিটের জন্য ট্রেডিং বন্ধ রাখা হয়।মূলত, ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের বাজারে।

পাকিস্তানের শেয়ার বাজারে (Pakistan Stock Exchange) বিরাট পতন:

বিস্তারিত: কেএসই-৩০ ইন্ট্রাডে ট্রেডিংয়ে প্রায় ৫,০০০ পয়েন্ট কমে ৪৬,৩৫১.৬৪-এ পৌঁছে যায়। রিপোর্ট অনুসারে, এহেন ঘটনা পাকিস্তানের শেয়ার বাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, ট্রেডিং পুনরায় শুরু হওয়ার পরেও, সূচকটি প্রায় ৯.২৫ শতাংশ কমে লেনদেন করছিল। সব থেকে চমকপ্রদ বিষয় হল, এই উল্লেখযোগ্য পতন সত্ত্বেও, বাজারটি এখনও এই বছরে প্রায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Why should trading be stopped in Pakistan Stock Exchange?

হ্রাসের কারণ: পাকিস্তানের শেয়ার বাজারে এই হ্রাস মূলত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত বিরোধের কারণে ঘটেছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ইরানপন্থী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, করাচিতে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভকারী এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পাকিস্তান ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ চালু করে প্রতিশোধ নিয়েছে। যার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে ভারতীয় পণ্যের দাপট! লাফিয়ে বাড়ছে রফতানি, দেশে আসছে হাজার হাজার কোটি টাকা

বিশ্বজুড়ে বাজারে আতঙ্ক: সামগ্রিকভাবে, বিশ্বব্যাপী বাজারগুলিও চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে পাকিস্তানে পতন সবচেয়ে তীব্র ছিল। এশিয়ান বাজারগুলি গড়ে ১.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যেখানে মার্কিন ফিউচার্স প্রায় ০.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ভারতেও, দুপুরের মধ্যে বাজারগুলি প্রায় ১.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপে, EURO STOXX ৫০ ফিউচার্সের দাম ১.৩ শতাংশ এবং DAX ফিউচার্সের দাম ১.৪ শতাংশ কমেছে। যেখানে FTSE 100 ফিউচার্সের দাম ০.৬ শতাংশ কমেছে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের আবহেও নেই চিন্তা! সরকারের এই পদক্ষেপে ভারতে এক পয়সাও বাড়বে না পেট্রোল-ডিজেলের দাম

সামগ্রিকভাবে, পরিস্থিতি দুর্বল বলে মনে হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞ আনশুল জৈনের মতে, কেএসই-৩০
৫০ সপ্তাহের মুভিং এভারেজের কাছাকাছি ৪৬,৪৪০-র স্তরকে টেস্ট করেছে এবং পতনের গতি ইঙ্গিত দেয় যে এটি কেবল একটি স্বাভাবিক কারেকশন নয়, বরং একটি বড় বিক্রির বিষয়। তিনি বলেন যে, পরবর্তী মূল সাপোর্ট ৪১,০০০-এর কাছাকাছি। এবং যদি এটিও ভেঙে যায় তবে সূচকটি ৩৩,০০০-এ নেমে যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে, পাকিস্তানের শেয়ার বাজার বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার দ্বৈত চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই, স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে না আসা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত, পাকিস্তানের শেয়ার বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে বর্তমানে যেকোনও উত্থানকে স্থায়ী উন্নতি হিসেবে বিবেচনা না করে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।