বাংলাহান্ট ডেস্ক: এবার হরমুজ প্রণালী (Strait of Harmuz) নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে এগোতে চলেছে ইরান! এই সমুদ্রপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলির উপর নির্দিষ্ট ‘ফি’ বা টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে তেহরান, এমনটাই দাবি করেছেন ওই দেশের এক অধ্যাপক। বিশ্বের বেশির ভাগ তেল ও বাণিজ্যের বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিরাট প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হরমুজে (Strait of Harmuz) এবার প্রতিটি জাহাজকে দিতে হবে টোল?
একটি সাক্ষাৎকারে তেহরানের এক অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক হামলার কারণে ইরান অর্থনৈতিকভাবে বেশ চাপে রয়েছে। সেই কারণে এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীকে কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে ইরান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাহাজ চলাচলের উপর ১০ শতাংশ টোল আরোপ করলে বছরে প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়ক হবে।
আরও পড়ুন: অন্ধকারকে করেছেন জয়! UPSC-তে প্রথম প্রচেষ্টায় সফল দৃষ্টিহীন অক্ষত
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীর উপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে ইরান। বর্তমানে এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে ইরানি সেনার অনুমতি ছাড়া যেতে দেওয়া হচ্ছে না এবং যেতে দিলেও একাধিক শর্ত মানতে হচ্ছে। বিভিন্ন দেশকেও জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
Brilliant move by Iran. They are planning to levy a 10% toll on all ships passing through the Strait of Hormuz. This will generate $73 billion a year, completely offsetting US sanctions and paying for war damages. Checkmate. pic.twitter.com/ahjNE3HUEr
— Furkan Gözükara (@FurkanGozukara) March 18, 2026
এই আবহে টোল ব্যবস্থা চালু করা হলে তা শুধু অর্থনৈতিক পদক্ষেপই হবে না, বরং আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় ইরানের বড় একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বহু দেশের অর্থনীতিতে।

আরও পড়ুন: দু বছর পরেও অধরা বিচার, মেয়ের জন্য এবার বিজেপির হাত ধরে পানিহাটিতে লড়বেন ‘অভয়া’র মা!
অন্যদিকে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলাগুলিকে শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন ইজাদি। তাঁর মতে, আলি খামেনেই ও আলি লারিজানির মতো নেতাদের মৃত্যুর পর নতুন নেতৃত্ব আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে কোনও সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।












