বাংলা হান্ট ডেস্ক : অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা কবে মিলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা মহিলাদের ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া পুরসভা চত্বরে একসঙ্গে জড়ো হলেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের বহু মহিলা। তাঁদের অভিযোগ, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কেউ টাকা পাচ্ছেন না, কারও আবার প্রথম কিস্তির পর আর কোনও টাকা আসেনি। অনলাইন পোর্টালে ভুল তথ্য থেকে শুরু করে সমীক্ষায় অসঙ্গতি—একাধিক কারণ দেখিয়ে তাঁদের আবেদন আটকে রয়েছে বলেও দাবি বিক্ষোভকারীদের।
অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা না পাওয়ায় বিক্ষোভ
যারা বিক্ষোভ করছেন তারা বেশিরভাগই যোগ্য উপভোক্তা। লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন এমন অনেকেই অন্নপূর্ণার টাকা পাননি। অভিযোগে প্রথমেই উঠে আসে৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পিঙ্কি মাঝির নাম। তিনি জানান, অন্যের বাড়িতে বাসন মেজে তাঁর সংসার চলে। তাঁর স্বামী পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে মাসে ৩ হাজার টাকা করে অন্নপূর্ণা দেওয়ার কথা বলা হলেও এখন সেই টাকা না পাওয়ায় সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। পিঙ্কির মতোই সকাল থেকে পুরসভায় পৌঁছতে থাকেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের মহিলারা।
কোনও মহিলার অনলাইন স্ট্যাটাসে আবেদন ‘আন্ডার প্রসেস’, কারও ক্ষেত্রে ‘আন্ডার এনকোয়ারি’। আবার কয়েকজনের দাবি, আবেদন জমা দেওয়ার পরেও সরকারি পোর্টালে সেটি সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে না। ফলে যোজনার সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা মহিলাদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।
অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য যে সমীক্ষা ও যাচাই করা হয়েছে, তার নির্ভুলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। সূর্যসেন পল্লির গীতা মণ্ডলের দাবি, তাঁর বাড়িতে সমীক্ষা করতে গিয়ে পুরসভার কর্মীরা ঘরের সংখ্যা নিয়ে সমীক্ষা রিপোর্টে ভুল তথ্য নথিভুক্ত করেছেন। যার ফলে তিনি অন্নপূর্ণার সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা না পাওয়া কোয়েল মণ্ডলের অভিযোগ, তাঁর স্বামী জয়প্রকাশ মণ্ডল একসময় এসএসসি গ্রুপ ডি-তে চাকরি করতেন। প্রায় দেড় বছর আগে সেই চাকরি চলে যাওয়ার পর এখন আর কোনও সরকারি বেতন পান না তিনি। কিন্তু অন্নপূর্ণার আবেদনের স্ট্যাটাসে এখনও তাঁর স্বামীকে সরকারি কর্মী হিসেবে দেখানো হচ্ছে বলে দাবি কোয়েলের। সেই কারণেই তাঁর আবেদন আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ।
বিক্ষোভকারীদের আরও দাবি, সমীক্ষার সময় কিছু ক্ষেত্রে ঠিকভাবে আবেদন যাচাই করা হয়নি। বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরুলিয়া সদর থানার আইসি শিবনাথ পাল-সহ পুলিশ আধিকারিকরা পুরসভা চত্বরে পৌঁছন। পরে বিক্ষোভকারী মহিলাদের সঙ্গে পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের বৈঠক হয়। প্রশাসনের তরফে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

আরও পড়ুন : CAA নিয়ে নয়া নির্দেশিকা! পশ্চিমবঙ্গ-সহ ৮ রাজ্যে বদলে গেল নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম
পুরুলিয়া পুরসভা এলাকায় অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে জমে থাকা ক্ষোভ এদিনের বিক্ষোভে স্পষ্ট হয়ে গেল। এখন প্রশাসনের তদন্তেই পরেই স্পষ্ট হবে, আবেদন আটকে থাকার পিছনে প্রকৃত কারণ কী এবং সমীক্ষা বা পোর্টালে কোথায় ভুল হয়েছে। দ্রুত সংশোধন করে প্রকৃত উপভোক্তাদের টাকা দেওয়া যায় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে বিক্ষোভকারী মহিলাদের।














