বাংলাহান্ট ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর ভারত (India) -পাকিস্তান (Pakistan) সম্পর্কের বরফ কি এবার গলতে চলেছে? প্রায় ১৮ মাসের টানাপোড়েনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর দিল্লিতে আয়োজিত হতে চলেছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং তার জবাবে ভারতের সামরিক অভিযান অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথম ভারতে আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠানে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানো হল। স্বাভাবিক ভাবেই, ভারতের এই পদক্ষেপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরের ১৮ মাস পর SCO বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারতের (India)!
সূত্রের খবর, দিল্লির এই বৈঠকে এসসিও-র ১০টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানও। দেশটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মন্ত্রী ঔরঙ্গজেব খান খিচির কাছে ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই আমন্ত্রণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইসলামাবাদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল যোগ দেবে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। শেষ পর্যন্ত পাক মন্ত্রী ভারতে (India) এলে ২০২৩ সালের পর এই প্রথম কোনও পাকিস্তানি মন্ত্রী ভারত সফরে আসবেন। এর আগে ওই বছর গোয়ায় আয়োজিত এসসিও-র বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের মেট্রো প্রকল্পে বড় দায়িত্ব পেল ভারতীয় সংস্থা L&T! ৫,০০০ কোটিরও বেশি চুক্তি
এবারের বৈঠকটি আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রক ও বিদেশ মন্ত্রক। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২৫টি দেশের প্রতিনিধিরা এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেবেন। সভ্যতাগত সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক কূটনীতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রথাগত জ্ঞান এবং শিক্ষাক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। ভারতের প্রাচীন ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে দিল্লির ঐতিহাসিক পুরানা কেল্লায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। রাশিয়া, চিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইরান, বেলারুশ এবং পাকিস্তান-সহ এসসিও-র সদস্য দেশগুলির সংস্কৃতিমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষক দেশগুলিকেও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিঁদুর শুরু করেছিল ভারত। চার দিন ধরে চলা সামরিক অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। এই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকে। কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও এই আমন্ত্রণকে এখনই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলার নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখার অবকাশ নেই।

আরও পড়ুন: নতুন শিক্ষকদের রাজনীতি ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ বিরোধীদের
তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের (India) এসসিও ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর অলোক ডিমরি ইসলামাবাদ সফর করেছিলেন। তার পরেই দিল্লির বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যদিও এসসিও-র মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে সদস্য দেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ, তবু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের এই পদক্ষেপের কূটনৈতিক তাৎপর্য অস্বীকার করা যায় না। এখন নজর থাকবে, পাকিস্তান এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে কি না এবং শেষ পর্যন্ত দুই দেশের প্রতিনিধিরা একই মঞ্চে উপস্থিত হন কি না। তাতেই স্পষ্ট হতে পারে, অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক কোন পথে এগোচ্ছে।














