বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজধানী ঢাকার মেট্রোরেল (Dhaka Metro Rail) প্রকল্পে ফের বড় দায়িত্ব পেল ভারতের অন্যতম নির্মাণ সংস্থা লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)। ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম প্যাকেজের নকশা তৈরি ও নির্মাণের বরাত পেয়েছে সংস্থাটি। এই কাজের জন্য জাপানের সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে এলঅ্যান্ডটি। দুই সংস্থার হাতে থাকবে রেলপথ নির্মাণ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ সরবরাহ, সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর বসানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সব মিলিয়ে ভারতীয় মুদ্রায় এই চুক্তির মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।
ঢাকা মেট্রো প্রকল্পে (Dhaka Metro Rail) বড় দায়িত্ব পেল ভারতীয় সংস্থা
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই চুক্তির কথা জানিয়েছে এলঅ্যান্ডটি। সংস্থার পরিবহণ ব্যবসা বিভাগ ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের অধীনে এই কাজের বরাত পেয়েছে। এলঅ্যান্ডটির হিসাব অনুযায়ী, চুক্তি দুটির আর্থিক মূল্য এতটাই বেশি যে সেগুলিকে সংস্থার বড় মাপের প্রকল্পের তালিকায় রাখা হয়েছে। শুধু রেললাইন তৈরি করাই নয়, গোটা ব্যবস্থাকে সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্বও পালন করবে দুই সংস্থা। ফলে বাংলাদেশের রাজধানীতে আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই চুক্তি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে (Dhaka Metro Rail)।
আরও পড়ুন: ৪৫ হাজার টাকা বেসিক পে থেকে HRA, সপ্তম পে কমিশনে রাজ্য সরকারি কর্মীদের দাবি কী কী?
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, রেলপথে ট্র্যাক বসানো, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থা তৈরি, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন নির্মাণ এবং ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমের মতো বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোর কাজ করবে এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমো। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, সেগুলি বসানো, পরীক্ষা করা এবং পরিষেবা চালুর উপযোগী করে তোলার দায়িত্বও তাদের হাতে থাকবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে মেট্রোর সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন। অর্থাৎ, ট্রেন চলাচল নিরাপদ ও সুষ্ঠু রাখতে প্রয়োজনীয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার নকশা তৈরি থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত কাজ করবে এই যৌথ উদ্যোগ।
ঢাকার মেট্রো প্রকল্পে এলঅ্যান্ডটির এই নতুন দায়িত্ব অবশ্য প্রথম নয়। এর আগে বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল করিডর, ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলওয়ে সিস্টেম প্যাকেজের কাজ পেয়েছিল ভারতীয় সংস্থাটি। সেই প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করেছে তারা। বর্তমানে লাইন-৬ বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে। এলঅ্যান্ডটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা ট্রান্সপোর্টেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিভাগের প্রধান রামকুমার এস জানিয়েছেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে বারবার কাজের বরাত পাওয়া আন্তর্জাতিক স্তরে বড় মাপের নগর গণপরিবহণ প্রকল্প বাস্তবায়নে সংস্থার দক্ষতারই প্রমাণ। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা মেট্রো প্রকল্পের কাজও পেয়েছে এলঅ্যান্ডটি। সেই প্রকল্পের কাজ বর্তমানে চলছে।

আরও পড়ুন: দীর্ঘদিন পর রাজ্যজুড়ে অটোভাড়া বৃদ্ধি, ন্যূনতম ভাড়া কত হল? জেনে নিন নতুন ভাড়ার তালিকা
উল্লেখ্য, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা বা জাইকার অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে ঢাকা মেট্রোরেল (Dhaka Metro Rail) লাইন-১। প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর অধীনে থাকবে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এয়ারপোর্ট রুট এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত পূর্বাচল রুট। গোটা প্রকল্পে ১৯টি স্টেশন এবং পিতালগঞ্জে একটি ডিপো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে ঢাকার গণপরিবহণ ব্যবস্থায় গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যানজটের চাপ কমানো এবং শহরের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তোলার ক্ষেত্রেও এই মেট্রোরেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।












