বাংলাহান্ট ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের বাণিজ্যনগরী মুম্বইতে (Mumbai) ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। পহেলগাঁওয়ের ধাঁচে ধর্মীয় পরিচয় জিজ্ঞেস করে দুই নিরাপত্তারক্ষীর উপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শহরের নয়া নগর এলাকায়, যেখানে একটি নির্মীয়মান ভবনের কাছে কর্তব্যরত ছিলেন দুই প্রহরী। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মুম্বইয়ে (Mumbai) পহেলগাঁও স্টাইলে ধর্ম জিজ্ঞেস করে হামলা:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ৩১ বছর বয়সি জইব জুবের আনসারি আচমকাই দুই নিরাপত্তারক্ষী রাজকুমার মিশ্র ও সুব্রত সেনের কাছে গিয়ে তাঁদের ধর্ম জানতে চান। অভিযোগ, এরপর তাঁদের ‘কলমা’ পড়তে বলা হয়। তা করতে না পারাতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। সোমবার ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ ঘটে এই ঘটনা। গুরুতর জখম অবস্থায় দুই প্রহরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে রাজকুমারের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: হাই কোর্টে খারিজ হয়েছিল তালিকা, তারপরও ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে অ্যাকশন! ফের আদালতে কল্যাণ
ঘটনার পর আহত রাজকুমার কোনওভাবে নিজেই হাসপাতালে পৌঁছন, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা নয়াব শেখ রক্তাক্ত অবস্থায় সুব্রতকে উদ্ধার করে প্রথমে থানায় এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে যান। এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে দুই জখম প্রহরীর চিকিৎসা চলছে এবং তাঁদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে। নয়া নগর থানায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর খুনের চেষ্টা এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে পেশ করলে তাকে ৪ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে নেমেছে মহারাষ্ট্র পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা এবং ভুয়ো খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

আরও পড়ুন: হার মানবে সিনেমাও! ৬৬-তে স্বপ্নপূরণের লড়াই শুরু করে যা করে দেখাচ্ছেন দীনেশ, জানলে অবাক হবেন
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত জুবের কয়েক বছর আমেরিকায় থাকার পর ২০১৯ সালে দেশে ফেরেন এবং মুম্বাইয়ের (Mumbai) মীরা রোড এলাকায় একাই বসবাস করতেন। পেশায় কেমিস্ট্রি শিক্ষক হলেও, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা নোটে ‘জেহাদ’ ও ‘গাজা’-র উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন তিনি এবং ISIS-এ যোগ দেওয়ার ইচ্ছাও ছিল। যদিও কোনও সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল কি না, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, তিনি একাই এই হামলা চালিয়েছেন, তবে তদন্ত এখনও চলছে।












