বাংলাহান্ট ডেস্ক: মঙ্গলবার সকালে মুম্বইয়ের (Mumbai) মালাড পশ্চিমের মালওয়ানিতে একটি শান্ত দিন মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কে বদলে যায়। গ্যাস লিকেজ থেকে হওয়া এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে একটি আবাসিক দোতলা চাউলের অংশবিশেষ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং দুটি পরিবারের মোট ৭ গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ মালওয়ানির এমএইচবি কলোনির ৮ নম্বর গেটে এসি মসজিদের কাছে এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মুম্বইয়ের ( Mumbai) মালওয়ানিতে গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ! ঝলসে গেলেন দুই পরিবারের ৭ জন
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রথম তলায় চৌধুরী পরিবারের একটি ঘরে এলপিজি সিলিন্ডার পুরো খালি হয়ে যাওয়ার পর গ্যাস লিক হয়ে জমে ছিল। সেই সময় কেউ চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করতেই আটকে থাকা গ্যাসে প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘরটি আগুনের গোলায় পরিণত হয়। জানালা ভেঙে কাচের টুকরো নীচের রাস্তায় ছিটকে পড়ে, ধাতব ছাদের চাদর উড়ে যায় এবং ছাদ ধসে পড়ে। ধাক্কা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে দ্বিতীয় তলার স্ল্যাব ভেঙে প্রথম তলায় পড়ে যায়, ফলে আগুন ও ধ্বংসাবশেষের মধ্যে আটকে পড়েন বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার পথ অনুসরণ করল ভারতের এই রাজ্য! অনূর্ধ্ব ১৬-দের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া
এই বিস্ফোরণে চৌধুরী পরিবারের আহত সদস্যরা হলেন বিজয় অশোক চৌধুরী (৫৫), রুমা বিজয় চৌধুরী ওরফে খান (৪৩), আলিশা বিজয় চৌধুরী ওরফে খান (২০), তৌসিফ বিজয় চৌধুরী ওরফে খান (২২) এবং আলীকাসাম (১৮)। দ্বিতীয় তলায় বসবাসকারী আফতাব আলম আনসারি (৫৫), তাঁর স্ত্রী জুলেখা আনসারি, তাঁদের দুই বছরের নাতি আদিল শেখও আগুনে দগ্ধ হন। ওই সময় আফতাব আলম বাথরুমে থাকায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান, আর তাঁর দুই মেয়ে নুসরাত ও নীলোফার বাড়িতে না থাকায় রক্ষা পান।
প্রতিবেশীরা বিস্ফোরণের শব্দকে “ভূমিকম্পের মতো” বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের কথায়, আচমকাই বিকট শব্দ করে পুরো বাড়ির দেয়াল কেঁপে ওঠে, লোকজন ভূমিকম্প ভেবে রাস্তায় ছুটে আসেন এবং গোটা গলিতে কাচ ছড়িয়ে পড়ে। উপরের তলা থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। পুলিশ ও দমকল বাহিনী পৌঁছনোর আগেই আহতদের নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে তাঁদের প্রথমে শতাব্দী, কুপার এবং পরে কেইএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। চৌধুরী পরিবারের এক আত্মীয় জানান, রুমা ও আলিশাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে। স্থানীয় কর্পোরেশনার রফিক শেখ ও তাঁর ভাই সিরাজ শেখ উদ্ধারকাজে সক্রিয় ভূমিকা নেন এবং অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেন। এদিকে পুলিশ ও দমকল আধিকারিকরা গ্যাস লিকের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছেন এবং ভবনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে।

















