বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিশ্বভারতীর (Visva Bharati) আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী (PM) কে চিঠি পাঠালেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত (Subhas Dutta)। জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মানেনি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। এ ব্যাপারে রয়েছে চূড়ান্ত প্রশাসনিক গাফিলতি, যা নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
সুভাষ দত্ত (Subhas Dutta) বিশ্বভারতীর (Visva Bharati) বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তুললেন?
উল্লেখ্য বিষয়, ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে, শান্তিনিকেতনে যে পৌষ মেলা হয়, সেই পৌষমেলাকে কেন্দ্র করে পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলা দুটি দায়ের করেন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত। সেই মামলাগুলিতে আদালত বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে তরল এবং বর্জ্য পদার্থ ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় পর্যাপ্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযোগ, কিন্তু সেই নির্দেশ এখনও কার্যকর করা হয়নি।
এ বিষয়ে আদালত কর্তৃক বারবার বলা সত্ত্বেও, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনও উদ্যোগ নেয়নি। ২১ জানুয়ারি ২০২৬ এর শুনানিতে জাতীয় পরিবেশ আদালত কঠোর এবং তিরস্কার মূলক মন্তব্য করতে বাধ্য হয় এ বিষয়ে। গত বছর বাইশে অক্টোবর বিশ্বভারতীর কর্তৃপক্ষকে আদালত একটি ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু সেই রিপোর্টও এখনো জমা পড়েনি।
আরও পড়ুন:আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে গ্রেপ্তার গোডাউনের মালিক! উদ্ধার আরও ৩ দেহাংশ, বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যা
রাজ্য নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই, তাই তারাই উদ্যোগ নিয়ে বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে, সেই বিস্তারিত রিপোর্টে। তবে এ ব্যাপারে আপত্তি তুলেছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। তিনি বলেছেন কেন্দ্রীয় মঞ্জুরি কমিশন কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অর্থ মঞ্জুর করবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে নিজস্ব পরিকাঠামো তৈরি করা উচিত এবং বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ডাম্পিং গ্রাউন্ডে হওয়া উচিত।

সুভাষ দত্ত এই বিষয় নিয়েই প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। তার বক্তব্য এটি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা থাকা উচিত নয়। প্রশাসনিক গাফিলতির জন্য বিষয়টি এগোয়নি এবং আদালতের রায়ও সেই জন্য কার্যকর হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। এই কারণেই তিনি বিশ্বভারতী ও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতীয় পরিবেশ আদালতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করেছিলেন। এখন এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে আবার তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন।

















