বাংলাহান্ট ডেস্ক: সোডিয়াম বা চিপসের ফাঁকা প্যাকেট সাধারণত আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়, কিন্তু সেই প্লাস্টিক বর্জ্য থেকেই সফলভাবে (Success Story)এক লাখ টাকার ব্যবসা গড়েছেন মাত্র ৩৬ বছর বয়সী অনীশ মালপানি। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আশায়া রিসাইক্লার্স প্রাইভেট লিমিটেড’, যা চিপসের প্যাকেটের মতো বহু-স্তরযুক্ত প্লাস্টিক (এমএলপি) পুনর্ব্যবহার করে ফ্যাশনেবল সানগ্লাস তৈরি করে। তাঁর ব্র্যান্ড ‘WITHOUT’ চালু হওয়ার মাত্র ১ সপ্তাহের মধ্যেই ১১ লক্ষ টাকা আয় করে। যা একটি পরিবেশবান্ধব স্টার্টআপ হিসেবে অভূতপূর্ব সাফল্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অনীশের অসাধারণ সফলতার কাহিনি (Success Story):
অনীশ মালপানির যাত্রা শুরু হয় আমেরিকা থেকে ভারতে ফেরার পর। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করার পর কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে মুম্বইয়ের দেওনার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে প্লাস্টিক বর্জ্যের পাহাড় এবং সেখানে কাজ করা মানুষের দুর্দশা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তিনি তখনই সিদ্ধান্ত নেন এমন একটি উদ্যোগ নেওয়ার যা পরিবেশ রক্ষা এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: ৪৮ ঘণ্টায় ঘুরে যাবে পুরো খেলা! ফের দক্ষিণবঙ্গে জাঁকিয়ে শীত? আবহাওয়ার আগাম আপডেট
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর সংস্থা এমএলপি পুনর্ব্যবহারের একটি কার্যকর প্রযুক্তি বিকাশে রসায়নে পিএইচডি গবেষকদের সঙ্গে কাজ করে। তাদের গবেষণার ফলস্বরূপ, চিপসের প্যাকেটের মতো জটিল প্লাস্টিক থেকে উচ্চমানের, ব্যবহারযোগ্য উপাদান উৎপাদন সম্ভব হয়। এই উপাদান দিয়েই তৈরি হয় ‘WITHOUT’ ব্র্যান্ডের সানগ্লাস, যা বিশ্বের প্রথম পুনর্ব্যবহৃত চিপস প্যাকেট থেকে নির্মিত চশমা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
২০২২-২৩ অর্থবছরে অনীশের ওয়েবসাইটে প্রতিটি ৫০০ টাকা দামে ৫০০ জোড়া সানগ্লাস বিক্রি হয়। এই বিপণন কৌশল ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি ক্রমবর্ধমান ভোক্তা আগ্রহই কোম্পানির দ্রুত সাফল্যের চাবিকাঠি। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি, অনীশ সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: নাম রয়েছে ২১০৩ জনের, আদালতের নির্দেশে অবৈধ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের তালিকা সামনে আনল SSC
তিনি পুণে ওয়েস্ট পিকার্স কালেক্টিভের সঙ্গে কাজ করেন, যেখানে মহিলা বর্জ্য সংগ্রহকারীরা খালি প্যাকেট সংগ্রহ করে প্রতি কিলোগ্রাম ৬ টাকা পান। একটি চশমা তৈরি করতে প্রায় পাঁচটি প্যাকেট লাগে এবং প্রক্রিয়াটি ৩-৪ দিন সময় নেয়। সংস্থা তাদের মোট বিক্রয়ের ১০ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহকারী শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণে দান করে। এই উদ্যোগ শুধু প্লাস্টিক দূষণই কমায় না, একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি তৈরি করে যেখানে বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে ভোক্তা সকলেই উপকৃত হয়।

















