বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের বিদেশমন্ত্রী ডক্টর এস. জয়শঙ্কর (S. Jaishankar) সোমবার দিল্লিতে পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী রাডোস্ল সিকোরস্কির সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একটি কড়া বার্তা দিয়েছেন। একটি যৌথ মিডিয়া উপস্থিতিতে জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস হয় না এবং এ বিষয়ে বিশ্বের প্রতিটি দেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা উচিত। তিনি প্রতিবেশী অঞ্চলে সন্ত্রাসী পরিকাঠামো গড়ে ওঠার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন এবং পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রীকে ‘সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘদিনের হুমকি’-র কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রীকে সন্ত্রাসবাদে মদত না দেওয়ার বার্তা জয়শঙ্করের (S. Jaishankar)
জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদকে কোনোভাবেই ন্যায্যতা দেওয়া যায় না এবং এর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। যদিও তিনি সরাসরি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেননি, কিন্তু সীমান্ত সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ তোলায় কূটনৈতিক মহল তাঁর মন্তব্যকে প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতি একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন। ভারতের এই অবস্থানের সাথে পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী রাডোস্ল সিকোরস্কি সহমত প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: পাহাড়ি জঙ্গুলে পথ দিয়ে আকর্ষণীয় টয়ট্রেন সফর, কোন সময়ে ছাড়বে? রইল টাইম টেবিল
পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকোরস্কি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার পক্ষে মত দেন এবং নিজ দেশের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংসের ঘটনায় পোল্যান্ডেও সন্ত্রাসবাদের হুমকি প্রকট হয়েছে। এই ঘটনা ইউরোপে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ছাড়াও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও শুল্ক নীতির বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর ইউক্রেন সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ভারত এর আগেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাতের অজুহাতে কোনো দেশের উপর একতরফা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা অন্যায্য। তাঁর এই মন্তব্যকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য ভারতের উপর আরোপিত শুল্কের প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘মহৎ উদ্দেশ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে পাকিস্তান’! লাহোর থেকে কী ইঙ্গিত দিলেন আসিম মুনির?
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত রাশিয়ার সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং তেল আমদানি বৃদ্ধি করেছে, যার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে বলে খবর রয়েছে। এই জটিল আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, ভারত পোল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক স্তরে সন্ত্রাস ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।













