ভোটের আগে বড় ধাক্কা! SIR যাচাইয়ে হাজার হাজার নাম বাদ, কেন কাটছে?

Published on:

Published on:

SIR Verification Update Names Rejected reason
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সামনেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ। তার আগেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শুরু হওয়া এসআইআর বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। যাচাই চলাকালীনই সামনে আসছে একের পর এক সমস্যা। হাজার হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছেন না, ঠিক কোন ভুলের কারণে তাঁদের আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম না মানলেই যে নাম কাটা যেতে পারে, তা অনেকেরই অজানা। এই পরিস্থিতিতে কারা বাদ পড়ছেন, কেন পড়ছেন, এবং কোথায় হচ্ছে গরমিল, এই সবকিছু জানাতেই আজকের এই প্রতিবেদন।

ভোটার তালিকা (SIR) থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে কী বলছে কমিশন?

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, যাচাইয়ের সময় নির্ধারিত গাইডলাইন এবং ১১টি বাধ্যতামূলক নথিপত্র ঠিকমতো জমা না পড়লে আবেদন বাতিল করা হচ্ছে। নতুন আবেদনকারী হোক বা যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই তালিকায় রয়েছে, সামান্য ভুলেই ‘রিজেক্ট’ হয়ে যাচ্ছে বহু আবেদন। কমিশন জানিয়েছে, মোট ১৬টি ‘কমন অবজারভেশন’ বা সাধারণ ভুল চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে একটু অসতর্ক হলেই নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকছে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শুধুমাত্র আধার কার্ড জমা দিলে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেক আবেদনকারী প্যান কার্ড বা রেশন কার্ড জমা দিচ্ছেন। কিন্তু কমিশনের মান্য নথির তালিকায় এই দু’টি নেই। ফলে প্যান বা রেশন কার্ড জমা পড়লেই আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও জমির দলিল, পঞ্চায়েত প্রধানের শংসাপত্র, নাম পরিবর্তনের এফিডেভিট বা প্রাইভেট স্কুলের সার্টিফিকেট, এই ধরনের অপ্রাসঙ্গিক কাগজ জমা পড়লে আবেদন ‘রিজেক্ট’ তালিকায় চলে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন যাঁদের জন্ম ১লা জুলাই ১৯৮৭ থেকে ১লা জানুয়ারি ২০২৪-এর মধ্যে। এই বয়সের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কমিশন অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে। শুধু নিজের বার্থ সার্টিফিকেট, আধার বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিলেই চলবে না। বাবা-মায়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রমাণ বা লিংকেজ দেখাতে না পারলে আবেদন ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এমনকি বাবা-মায়ের জন্ম সংক্রান্ত নথি না থাকলেও নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকছে। কমিশনের বক্তব্য, নিজের সব কাগজ ঠিক থাকলেও বাবা-মায়ের সঠিক ডকুমেন্ট বা সম্পর্কের প্রমাণ না থাকলে ভোটার তালিকায় নাম তোলা কার্যত অসম্ভব।

২০০২ সালের তথ্যের সঙ্গে গরমিল

ভোটার তালিকা যাচাইয়ের (SIR) ক্ষেত্রে ২০০২ সালের পুরনো বা লিগ্যাসি ডেটার সঙ্গে বর্তমান তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বাবা-মায়ের ২০০২ সালের ভোটার তালিকার রেফারেন্স দেওয়া হলেও নামের বানান বা তথ্যের সঙ্গে বর্তমান নথির বড় অমিল রয়েছে। এই ধরনের গরমিল থাকলেই আবেদন বাতিল হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের বদলে দাদু বা দিদার রেফারেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে যদি নামের সম্পূর্ণ অমিল থাকে এবং সাপোর্টিং ডকুমেন্ট হিসেবে শুধুমাত্র আধার কার্ড জমা পড়ে, তাহলে সেই আবেদনও বাতিলযোগ্য বলে কমিশন জানিয়েছে।

অনেক সময় ভোটারের কোনো দোষ না থাকলেও প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা বিএলও (BLO)-দের ভুলের কারণে আবেদন বাতিল হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সিস্টেমে ‘বার্থ সার্টিফিকেট’ অপশন বেছে নেওয়া হলেও আপলোড করা হয়েছে আধার কার্ডের ছবি। এই ধরনের ক্যাটাগরি মিসম্যাচ হলে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। এছাড়া এনুমারেটর ফর্মে দেওয়া সই এবং শুনানির রিসিভ কপিতে থাকা সই যদি না মেলে, অথবা একই ছবি একাধিক ভোটারের প্রোফাইলে আপলোড থাকলে কমিশন তা জালিয়াতি বা গুরুতর ভুল হিসেবে ধরে নিয়ে নাম বাতিল করছে।

SIR Hearing Begins Ahead of Final Voter List

আরও পড়ুনঃ বাংলা-সহ ১২ রাজ্যে ‘সাফল্য’, এবার দেশজুড়ে SIR চালুর পথে কমিশন

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইস্যু হওয়া ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেটধারীদের নাম আপাতত অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না বা অনেক ক্ষেত্রে রিজেক্ট করা হচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে, এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভরশীল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (SIR) প্রকাশের আগে তাই নিজের আবেদন বা নামের স্ট্যাটাস ভালো করে যাচাই করে নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।