Durga Puja 2026 Live Updates

ধার করে শুরু ব্যবসা! এখন দৈনিক ৪০,০০০ টাকার বিক্রি, চমকে দেবে এই ভাই-বোনের সাফল্যের কাহিনি

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: স্ট্রিট ফুডের ব্যবসাকে অনেকেই কম পুঁজি ও কম ঝুঁকির সহজ পথ বলে মনে করেন। কিন্তু মহারাষ্ট্রের থানের ২৩ বছরের তরুণ গণেশ সাথের সাফল্যের গল্প (Success Story) সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি নিজের কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সেই স্বপ্ন থেকেই শুরু হয়েছিল এক পুরনো গাড়িতে মায়ের হাতের “বেন্নে দোসা” বিক্রির উদ্যোগ। শুরুটা আশার হলেও বাস্তবতা খুব দ্রুতই কঠিন হয়ে ওঠে, আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক চাপ তাঁকে প্রায় ভেঙেই দিয়েছিল।

গণেশ ও স্বপ্না সাথের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

পরিবারের ভরসায় দাঁড়িয়ে গণেশ প্রথমে বাবা-মায়ের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে বাড়ির সামনে গাড়িতে দোসা বিক্রি শুরু করেন। কিন্তু প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজার, পর্যাপ্ত আলো না থাকা গাড়ি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ক্রেতা তেমন জুটছিল না। সপ্তাহান্তে যেখানে আয় হতো প্রায় ৩ হাজার টাকা, তা নেমে আসে মাত্র ২০০ টাকায়। ক্রমাগত লোকসানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে এক সময় তিনি কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আরও পড়ুন: পরপর ঘটে বিস্ফোরণ! কীভাবে দুর্ঘটনার সম্মুখীন অজিত পাওয়ারের বিমান? জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

এই সময় পাশে দাঁড়ান তাঁর বোন স্বপ্না সাথ। দু’জনে মিলে নতুন করে ভাবনার খোঁজে তাঁরা বেঙ্গালুরু যান এবং সেখানে বিখ্যাত রামেশ্বরম ক্যাফের দোসা সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখেন। তখনই তাঁরা বুঝতে পারেন, তাঁদের প্রস্তুতি ও উপস্থাপনায় কোথায় ঘাটতি ছিল। এর মধ্যেই শিল্পপতি রতন টাটার একটি অনুপ্রেরণামূলক পোস্ট গণেশের মনোবল ফের জাগিয়ে তোলে। সেই অনুপ্রেরণায় গাড়িতে “রতন টাটা দ্বারা অনুপ্রাণিত” লেখা যুক্ত করা হয় এবং ৩০ হাজার টাকার একটি ছোট অনলাইন ঋণ নিয়ে গাড়িটিকে নতুন প্রিমিয়াম রূপ দেওয়া হয়।

অক্টোবরে নতুন উদ্যমে ‘দ্য বেনে’ নামে উদ্যোগটি ফের শুরু হয়। এবার শুধু খাবার নয়, নিজেদের লড়াইয়ের গল্পও তাঁরা ইনস্টাগ্রামে তুলে ধরতে থাকেন। ধীরে ধীরে সেই গল্প ভাইরাল হয় এবং স্থানীয়ভাবে ব্যাপক পরিচিতি পায়। প্রতিদিন যেখানে আগে ২০ জন ক্রেতাও পাওয়া যেত না, সেখানে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০০ থেকে ৪০০ জনে। মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই সব দোসা বিক্রি হয়ে যায় এবং দৈনিক বিক্রি পৌঁছয় প্রায় ৪০ হাজার টাকায়। পুনে থেকে আনা খাঁটি সাদা মাখনে তৈরি বেন্নে দোসার স্বাদ দ্রুত মানুষের মন জয় করে নেয়।

Ganesh and Swapna's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কড়া হাইকোর্ট, ৩১ মার্চের মধ্যে সীমান্তের জমি কেন্দ্রকে দিতে রাজ্যকে নির্দেশ

ক্রমবর্ধমান ভিড় ও পৌর কর্পোরেশনের নানা চ্যালেঞ্জের মুখে অবশেষে গণেশ ও স্বপ্না ব্যবসাকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষা কমাতে নিজেদের সঞ্চয় ও বাবা-মায়ের সহায়তায় থানেতেই একটি স্থায়ী দোকান নিশ্চিত করা হয়, মজার বিষয় সেই জায়গাতেই যেখানে প্রথম কার্ট বসানো হয়েছিল। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে পাঁচ হাজারের বেশি অনুসারী নিয়ে এই দুই তরুণ উদ্যোক্তা তাঁদের স্বপ্নের দোকান তৈরির প্রতিটি মুহূর্ত সবার সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন, যা ছোট শুরু থেকে বড় সাফল্যের এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।