HCL-এর হাত ধরেই বিশ্বমঞ্চে ভারত, শিব নাদারের নেতৃত্বে বদলে গেল আইটির ইতিহাস

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সাফল্যের গল্প (Success Story) বললে যে নামটি অবধারিত ভাবে সামনে আসে, তিনি শিব নাদার। ১৯৭৬ সালে দিল্লির একটি ছোট গ্যারেজ থেকে যাত্রা শুরু করে যে উদ্যোগ, তা আজ বিশ্বজোড়া আইটি সংস্থা হিন্দুস্তান কম্পিউটারস লিমিটেড বা এইচসিএল। কয়েক দশকে ভারতের প্রযুক্তি মানচিত্র বদলে দেওয়ার পাশাপাশি শিব নাদার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ দানশীল হিসেবেও। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭.৪ কোটি টাকা সমাজকল্যাণে দান করেন বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

শিব নাদারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

১৯৪৫ সালের ১৪ জুলাই তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লী জেলায় জন্ম শিব নাদারের। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবন শুরু করেন ডিসিএম গ্রুপে। সেখানেই সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে ভারতে কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি নতুন স্বপ্ন তৈরি হয়। সেই স্বপ্নকেই বাস্তব রূপ দিতে ১৯৭৬ সালে কয়েক জন তরুণ প্রকৌশলীর সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এইচসিএল। লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—ভারতে আধুনিক কম্পিউটার প্রযুক্তির প্রসার এবং নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।

আরও পড়ুন: আনন্দপুরের মর্মান্তিক আগুনে শোকস্তব্ধ দেশ, মৃত ও আহতদের জন্য আর্থিক সাহায্য ঘোষণা মোদীর

শুরুর দিনগুলো মোটেই সহজ ছিল না। আর্থিক টানাপোড়েন, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই এগোতে হয়েছে এইচসিএলকে। তবে শিব নাদারের দূরদর্শী চিন্তাভাবনা এবং উদ্ভাবনের প্রতি অটল বিশ্বাস সংস্থাকে ধীরে ধীরে শক্ত ভিত দেয়। আশির দশক ও নব্বইয়ের দশকে এইচসিএল হার্ডওয়্যার উৎপাদনের পাশাপাশি সফটওয়্যার উন্নয়ন ও আইটি পরিষেবার দিকে ঝোঁকে। এর পরই আন্তর্জাতিক বাজারে পা রাখে সংস্থাটি।

বর্তমানে এইচসিএল টেকনোলজিস বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে কাজ করছে এবং ২ লক্ষ ২২ হাজারের বেশি কর্মী এখানে নিযুক্ত। ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার পরিষেবায় সংস্থাটি অন্যতম বড় নাম। চার দশকেরও বেশি সময় নেতৃত্ব দেওয়ার পরে ২০২০ সালে চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেন শিব নাদার। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন কন্যা রোশনি নাদার মালহোত্রা, যিনি এইচসিএলের ইতিহাসে প্রথম মহিলা চেয়ারম্যান। বর্তমানে শিব নাদার চেয়ারম্যান এমেরিটাস ও কৌশলগত উপদেষ্টার ভূমিকা পালন করছেন।

Shiv Nadar's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: ইউরোপে ভারতীয় পণ্যের দাপট বাড়লে ধাক্কা খাবে পাক বস্ত্র রফতানি? উদ্বেগে ইসলামাবাদ

ব্যবসার বাইরেও শিব নাদারের অবদান বিস্তৃত। শিব নাদার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলে শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৮.২ বিলিয়ন ডলার। অন্য দিকে, ‘এডেলগিভ-হুরুন দানশীলতার তালিকা ২০২৫’ অনুযায়ী টানা কয়েক বছর ধরে তিনি ভারতের সর্ববৃহৎ দানশীলদের মধ্যে শীর্ষে। ২০০৮ সালে পদ্মভূষণ প্রাপ্ত শিব নাদারের জীবনযাত্রা আজও প্রমাণ করে, একটি ছোট গ্যারেজ থেকেও বিশ্বমানের সাফল্যের গল্প লেখা সম্ভব।