বাংলা হান্ট ডেস্ক: আনন্দপুরের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি শুক্রবার ঘোষণা করেন, জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মৃতের পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা ও প্রতিটি আহতকে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। তাঁর এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশিত শোকবার্তায় তিনি শোকাহত পরিবারগুলির প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর মোদির (Narendra Modi)
দক্ষিণ ২৪ পরগনার আনন্দপুরে গত রবিবার রাতে একটি ডেকরেটিং গুদামে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। আগুনের তীব্রতায় বহু দেহ সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতারের পর, এই গুদামে মোমো উৎপাদনকারী একটি কোম্পানির ভূমিকা নিয়ে তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: ইউরোপে ভারতীয় পণ্যের দাপট বাড়লে ধাক্কা খাবে পাক বস্ত্র রফতানি? উদ্বেগে ইসলামাবাদ
ঘটনার তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে, নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ মোমো কোম্পানির দুই আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে। তবে কোম্পানির মালিক এখনও গ্রেফতারহীন থাকায় বিরোধী দলনেরেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি শুক্রবার আনন্দপুরে মিছিল করে মৃতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, সরকারি চাকরি এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পূর্বেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিটি মৃতের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব এটিকে প্রধানমন্ত্রীর ‘মানবিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে।

আরও পড়ুন: SIR নিয়ে আরও কড়া নির্বাচন কমিশন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে ‘শাস্তি’ বরাদ্দ
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে চলমান চাপের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা এসেছে। যদিও ত্রাণের অঙ্ক ঘোষিত হলেও, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।












