“সংবিধান মানতে না পারলে দেশ ছাড়ুন” — হোয়াটসঅ্যাপ-মেটাকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে চলা হোয়াটসঅ্যাপের ডেটা প্রাইভেসি বিতর্কে এ বার অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। হোয়াটসঅ্যাপ ও তার মালিক সংস্থা মেটা-কে স্পষ্ট ভাষায় ভর্ৎসনা করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, ভারতের সংবিধান ও দেশের আইন মেনে চলতে না পারলে এই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পথ খোলা রয়েছে। মূলত হোয়াটসঅ্যাপের ডেটা শেয়ারিং নীতি, ব্যবহারকারীদের তথ্য বাণিজ্যিক উদ্দেশে ব্যবহারের অভিযোগ এবং গোপনীয়তা রক্ষার প্রশ্নেই এই কড়া মন্তব্য আদালতের।

হোয়াটসঅ্যাপ-মেটাকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের (Suprem Court)

বুধবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কোনও অবস্থাতেই বাণিজ্যিক লাভের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। অন্তর্বর্তী নির্দেশ হিসাবে আদালত হোয়াটসঅ্যাপকে মেটা সংস্থার সঙ্গে ব্যবহারকারীদের কোনও তথ্য ভাগ করতে নিষেধ করেছে। যতদিন পর্যন্ত মামলার চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন না হচ্ছে, ততদিন এই তথ্য শেয়ার করা যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডেটা প্রাইভেসি, বিহেভিওরাল অ্যানালাইসিস এবং ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটা-কে।

আরও পড়ুন: ছোট্ট এক গ্রামের ছেলে থেকে আজ ফিনটেক কিং, তাক লাগাবে Groww IPO ঘিরে ললিত কেশরের সাফল্যের কাহিনি

এই মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালের হোয়াটসঅ্যাপের নতুন প্রাইভেসি পলিসি ঘিরে। সেই নীতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে যে, ব্যবহারকারীদের সম্মতি ছাড়াই তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করা হচ্ছে। কম্পিটিশন কমিশন অব ইন্ডিয়া এই ঘটনায় হোয়াটসঅ্যাপকে ২১৩ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। যদিও সেই জরিমানার উপর বর্তমানে স্থগিতাদেশ দিয়েছে কোম্পানি ল ট্রাইবুনাল। পাল্টা আবেদনে কম্পিটিশন কমিশনের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ বিজ্ঞাপনের স্বার্থে ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহার করছে, যা বাজারে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতার অপব্যবহার।

সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, হোয়াটসঅ্যাপের এই নীতি শোষণমূলক এবং সাধারণ নাগরিকদের গোপনীয়তাকে বিপদের মুখে ফেলছে। সেই প্রসঙ্গেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, “যদি আমাদের সংবিধান অনুসরণ করতে না পারেন, তবে ভারত ছেড়ে চলে যান। আমাদের নাগরিকদের গোপনীয়তার সঙ্গে কোনও আপস হতে পারে না।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, একজন গরিব মহিলা, রাস্তার ধারের বিক্রেতা বা শুধু তামিল জানা কোনও মানুষ কি এই জটিল প্রাইভেসি নীতি বুঝতে পারবেন? এমনকি শহুরে শিক্ষিত মানুষদের পক্ষেও এই নীতি বোঝা কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

The Supreme Court sends a strong message to WhatsApp-Meta.

আরও পড়ুন: শুল্ক কমলেও কাটছে না ধোঁয়াশা!ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির লাভ-লোকসান নিয়ে জারি চর্চা

প্রধান বিচারপতি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, হোয়াটসঅ্যাপে কোনও চিকিৎসকের সঙ্গে রোগ সংক্রান্ত কথোপকথনের পর সংশ্লিষ্ট ওষুধের বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠা থেকেই প্রশ্ন ওঠে তথ্য ব্যবহারের ধরন নিয়ে। যদিও মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষে আইনজীবী মুকুল রোহতগি এবং অখিল সিব্বল দাবি করেন, হোয়াটসঅ্যাপের সব মেসেজই ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড’ এবং সংস্থা কোনও বার্তা বা তথ্য দেখতে পায় না। তবুও শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দেয়, সাধারণ নাগরিকের গোপনীয়তা রক্ষা করাই অগ্রাধিকার, এবং এই প্রশ্নে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না।