বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার (India-US Trade) প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে নতুন করে জোরালো হল আলোচনা। দুই দেশের তরফে চুক্তি সংক্রান্ত ঘোষণা হওয়ার পর এবার মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা দপ্তর (U.S. Customs and Border Protection) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেছে। সেই বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ভারতীয় পণ্যের উপর পারস্পরিক সংশোধিত শুল্ক কবে থেকে কার্যকর হবে। ফলে দিল্লি-ওয়াশিংটনের বাণিজ্য সমীকরণে নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
ভারতীয় পণ্যে কবে থেকে লাগু নতুন মার্কিন শুল্ক (India-US Trade)? মিলল আপডেট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানান, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি না করা এবং আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার মার্কিন পণ্য কেনার শর্তে ভারতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তির পথে এগোচ্ছে আমেরিকা। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, পারস্পরিক শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে এবং বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
আরও পড়ুন: দেশের রক্ষায় রয়েছে বড় ভূমিকা! ঠিক কী কারণে ভারত-পাক সীমান্তের কাঁটাতারে রাখা হয় কাঁচের বোতল?
বুধবার হোয়াইট হাউসের ঘোষণার উল্লেখ করে মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা দপ্তর জানায়, নতুন ১৮ শতাংশ শুল্কহার কার্যকর হবে ৭ ফেব্রুয়ারি বা তার পরে গুদাম থেকে বার করা পণ্যের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ ওই তারিখের পর আমদানি হওয়া ভারতীয় পণ্যগুলির উপর সংশোধিত শুল্ক আরোপ করা হবে। দপ্তরের তরফে আরও জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্টের ঘোষণাই এখন থেকে প্রযোজ্য নিয়ম হিসেবে কার্যকর হবে এবং সেই অনুযায়ী শুল্ক আদায় করা হবে।
তবে রাশিয়ার তেল আমদানির প্রশ্নে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ভারত সরকার। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছিলেন, রুশ তেল না কেনার শর্তেই শুল্কহ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিল্লির অবস্থান কী, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। যদিও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

আরও পড়ুন: AI ব্যবহার করে মাধ্যমিকে টুকলির চেষ্টা! অভিযোগ সামনে আসতেই কড়া অ্যাকশন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের
এদিকে মঙ্গলবার সংসদীয় প্যানেলকে মোদি সরকার জানিয়েছে, ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে যে সব দেশ থেকে সস্তা ও উচ্চমানের অপরিশোধিত তেল পায়, সেখান থেকেই আমদানি চালিয়ে যাবে। সরকার স্পষ্ট করেছে, ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাজারদর এবং কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনা করেই তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত ও জ্বালানি আমদানির নীতির মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে, তা এখন নজরে আন্তর্জাতিক মহলের।

















