বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ধর্মতলায় নতুন করে তৈরি হল সরকারি বাস ডিপো। বৃহস্পতিবার থেকেই এই নয়া ডিপো থেকে বাস পরিষেবা শুরু হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জোঁকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডরের কাজে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল পুরনো বাস ডিপো। সেটি সরিয়ে এখন এসপ্ল্যানেড স্টেশন ও রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের মাঝের অংশে গড়ে উঠেছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন ডিপো (Esplanade Bus Stand)। ফলে একদিকে যেমন যাত্রীদের সুবিধা বাড়বে, তেমনই মেট্রোর কাজও দ্রুত এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ধর্মতলায় নয়া ডিপো থেকে বাস পরিষেবা শুরু (Esplanade Bus Stand)
কলকাতার ধর্মতলায় এসপ্ল্যানেড স্টেশন ও রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের মাঝের অংশে তৈরি হয়েছে নতুন সরকারি বাস ডিপো (Esplanade Bus Stand)। বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডিপো থেকে বাস চলাচল শুরু হবে। এই ডিপো থেকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম ও দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাস ছাড়বে। এতদিন পুরনো ডিপো থেকেই প্রতিদিন একশোরও বেশি দূরপাল্লার বাস বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করত। যার মধ্যে ছিল দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম, কলকাতা ট্রাম কোম্পানি এবং রাজ্য পরিবহণ নিগমের বাস। সন্ধ্যার দিকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের শিলিগুড়িগামী নন-এসি এবং এসি ভলভো বাসও এই ডিপো থেকেই ছাড়ত।
মেট্রো প্রকল্পে গতি আনতেই ডিপো সরানো
জোঁকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডরের কাজ করছে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (Rail Vikas Nigam Limited)। ধর্মতলায় ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন তৈরির সময় পুরনো বাস ডিপো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই কারণেই ডিপো সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাস ডিপো সরে যাওয়ায় মেট্রোর কাজ দ্রুত এগোবে বলে সংস্থার কর্তারা মনে করছেন। মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর এসপ্লানেড স্টেশনের জোড়া প্রবেশপথ এবং রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের মাঝের অংশে এই নতুন ডিপো (Esplanade Bus Stand) তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
নতুন ডিপোতে (Esplanade Bus Stand) বাস ঢোকা এবং বেরোনোর দু’টি পথই রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের ধর্মতলামুখী লেনে রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় যান নিয়ন্ত্রণ কীভাবে সম্ভব হবে, তা খতিয়ে দেখতে কলকাতা পুলিশের তরফে সময় চাওয়া হয়েছিল। এই কারণেই গত ডিসেম্বর থেকে ডিপো সরানো নিয়ে আলোচনা চললেও পুরো প্রক্রিয়ায় মাস দেড়েকের বেশি দেরি হয়।
নয়া ডিপোতে কী কী সুবিধা?
নতুন ডিপোটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সাজানো হয়েছে। এতে রয়েছে—
- উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের জন্য পৃথক বুকিং কাউন্টার
- যাত্রীদের জন্য বাতানুকূল অপেক্ষা গৃহ
- বাসচালক ও কর্মীদের জন্য বাতানুকূল ক্রু রুম
- পৃথক ‘পে অ্যান্ড ইউজ়’ টয়লেট
- পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনের আধিকারিকদের জন্য আলাদা ঘর
- তিনটি ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড
- একটি ৮ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট চওড়া বড় বোর্ড
- দুটি ৪ ফুট লম্বা ও ৩ ফুট চওড়া ছোট বোর্ড
- বড় বোর্ডটি সাধারণ পরিসরে এবং ছোট দুটি বোর্ড অপেক্ষা করার জায়গায় বসানো হয়েছে
- পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম
- জোড়া প্রবেশপথে প্রশস্ত সাইনবোর্ড
- চারটি ১৬ মিটার উচ্চতার হাই মাস্ট বাতিস্তম্ভ
- চারটি ৯ মিটার উচ্চতার বাতিস্তম্ভ
- অতিরিক্ত আরও একাধিক আলোর ব্যবস্থা
কী বললেন মন্ত্রী ও মেট্রো কর্তৃপক্ষ?
পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী বলেন, “আমরা সব সময়ই চেষ্টা করেছি জনগণের সুবিধা-অসুবিধা মাথায় রেখে কাজ করতে। মেট্রো অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। তাদের আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমরা আমাদের কাজ করেছি। পরিবহণ দফতরের তরফে যা যা সরঞ্জাম দরকার ছিল, সবই দেওয়া হয়েছে। সামান্য জমি দেওয়ার জন্য মেট্রোকে ধন্যবাদ।”

আরও পড়ুনঃ ৮০ পেরনো বাবা-মার বিরুদ্ধে IIT-IIM পাশ ছেলের ভাষা! ক্ষুব্ধ কলকাতা হাই কোর্ট, মনস্তত্ত্ববিদ ডাকল আদালত
কলকাতা মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এস এস কান্নান জানান, কিছু মেট্রো প্রকল্প দেরিতে চলছে। এখন বাস স্ট্যান্ড (Esplanade Bus Stand) সরে গিয়েছে। তবে বিসি রায় মার্কেট সরানো হবে কি না, সেটাও দেখতে হবে। এক সাধারণ যাত্রীর কথায়, “এতে সবারই সুবিধা হবে বলে মনে হচ্ছে।”
















