ভোটের আগে কড়া নজরদারি, সংবেদনশীল এলাকা চিহ্নিত করতে মাঠে কলকাতা পুলিশ

Published on:

Published on:

Kolkata Police Steps Up Security Before Polls
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সতর্ক হচ্ছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। শহরের প্রতিটি থানাকে নিজেদের এলাকায় কোন কোন জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ, তা চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আগের ভোটে যারা হিংসায় জড়িয়েছিল, তাদের তালিকা তৈরি করতেও বলা হয়েছে। খুব দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছবে, তার আগেই সব প্রস্তুতি সেরে ফেলতে চাইছে পুলিশ প্রশাসন।

প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি বাহিনী

পুলিশ সূত্রে (Kolkata Police) জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় ২৪০টি কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রবিবার বাংলায় পৌঁছবে। এর মধ্যে ১২টি কোম্পানি থাকবে কলকাতায়। বাহিনী আসার পরই শুরু হবে এলাকা আধিপত্য মহড়া। প্রতিটি কোম্পানির শক্তি অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করা হবে। সেই বিষয়ে কোম্পানির কমান্ডাররা শহরের ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সাধারণত একটি কোম্পানি প্রতিদিন তিনটি থানার এলাকায় টহল দেয় ও মহড়া চালায়। আলোচনার ভিত্তিতেই সময়সূচি ঠিক হবে, এবং তা কঠোরভাবে মানতে হবে।

সংবেদনশীল এলাকা চিহ্নিত করার নির্দেশ কলকাতা পুলিশকে (Kolkata Police)

শহরের সব থানার ওসি-দের বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের এলাকায় সংবেদনশীল অঞ্চল চিহ্নিত করতে। শুধু চিহ্নিত করলেই হবে না, সেগুলো আলাদা আলাদা জোনে ভাগ করতে হবে, যাতে পরিকল্পনা করে মহড়া চালানো যায়। লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিক ও বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মাঠে নামার আগেই এই কাজ শেষ করার নির্দেশ রয়েছে।

তালিকা তৈরির সময় তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে –

  • আগের নির্বাচনে যেখানে হিংসা হয়েছিল।
  • খুবই সংবেদনশীল এলাকায় থাকা ভোটকেন্দ্র।
  • জেলার সীমানা সংলগ্ন এলাকা, যেখানে একাধিক থানার সীমানা মিলে যায়।

প্রতিদিনের রিপোর্ট লালবাজারে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট এলাকার মোট কতগুলি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, সেটাও উল্লেখ করতে হবে।

পুলিশ (Kolkata Police) শুধু এলাকা নয়, দুষ্কৃতীদের নিয়েও আলাদা করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনটি আলাদা তালিকা বানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—

  • তালিকা ‘এ’: এলাকার চেনা অপরাধী।
  • তালিকা ‘বি’: এলাকায় সক্রিয়, কিন্তু অন্য জায়গায় থাকেন এমন অপরাধী।
  • তালিকা ‘সি’: নতুন বা উঠতি অপরাধী।

এলাকা আধিপত্য মহড়ার সময় চিহ্নিত অপরাধীদের আড্ডাখানা ও যাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাদের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হবে। কোনও পলাতক অভিযুক্ত থাকলে তার তথ্যও দৈনিক রিপোর্টে দিতে হবে।

Major Reshuffle in West Bengal Police Administration

আরও পড়ুনঃ SIR চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, আপনার নাম আছে তো? এভাবে অনলাইনে চেক করুন

যে সব এলাকা জেলার সীমানার কাছে এবং যেখানে থানার এখতিয়ার একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়, সেখানে যৌথ পরিকল্পনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক থানার সঙ্গে অন্য থানার সমন্বয় রেখে মহড়া চালাতে হবে, যাতে কোনও ফাঁক না থাকে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে শহরে যাতে কোনও অশান্তি না হয়, সে জন্য এখন থেকেই একেবারে খুঁটিনাটি পরিকল্পনা করে এগোচ্ছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)।