বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের ছবি নতুন নয়। তবে এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে যা ঘটেছে, তা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাতেই একসঙ্গে একটি গোটা পাড়ার বাসিন্দারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিয়েছেন। ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) ২০ পরিবার
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের বালক রাউত এলাকায় অন্তত ২০টি পরিবারের বাসিন্দা তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্য, একসঙ্গে একটি পাড়ার এতজন মানুষের দলবদল আসন্ন নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা তপন মাইতির হাত ধরে ওই এলাকার বাসিন্দাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, যারা যোগ দিয়েছেন তাঁরা এতদিন তৃণমূলের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু এবার বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই দলে নাম লিখিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। কোনও রাজনৈতিক দলই প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করেনি। তার আগেই দাসপুরে এই ধরনের যোগদানকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই দেখছে বিজেপি (BJP) শিবির। তাদের দাবি, এই এলাকায় এবার জয় তাদেরই হবে। যদিও বিজেপির এই দাবি মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। দাসপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুনীল ভৌমিক বলেন, ওই এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে এবং বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, ভোটের আগে এ ধরনের ঘটনা আরও দেখা যেতে পারে, তাই এই যোগদানকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে রাজি নয় তৃণমূল।
দাসপুর দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গত বিধানসভা নির্বাচনে এখানে তৃণমূল পেয়েছিল ৫১.৫৮ শতাংশ ভোট। বিজেপির (BJP) ঝুলিতে গিয়েছিল ৩৯.৫২ শতাংশ ভোট। লোকসভা নির্বাচনেও দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। এই বিধানসভা এলাকায় দু’টি ব্লক মিলিয়ে মোট ২০টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এর মধ্যে রানিচক গ্রাম পঞ্চায়েত ইতিমধ্যেই বিজেপির দখলে।

আরও পড়ুনঃ সাতসকালে গুলির শব্দে কাঁপল গঙ্গাসাগর, BJP নেতাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে চাঞ্চল্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই এলাকায় বেশ কিছু বিষয় বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা এখানে বড় ফ্যাক্টর। এই এলাকায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাইরে কাজ করতে যান বলে জানা যায়। পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থা, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং আবাস যোজনার বাড়ি নিয়েও মানুষের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে এই কেন্দ্রে আবারও তৃণমূলকে কড়া টক্কর দিতে পারে বিজেপি (BJP) বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

















