বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, সম্প্রতি কিছু মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, নির্বাচনের পর পেট্রোল ও ডিজেলের দাম (Petrol-Diesel Price) ২৮ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। যার ফলে চিন্তায় পড়েছিলেন সাধারণ মানুষরা। তবে, এবার এহেন দাবি আদৌ সত্যি কিনা সেই প্রসঙ্গে সরকার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এই ধরণের রিপোর্টকে ‘ভুয়ো’ হিসেবে বিবেচিত করে সম্পূর্ণরূপে নাকচ করেছে।
ভোটের পরেও বাড়বে না পেট্রোল-ডিজেলের (Petrol-Diesel Price) দাম:
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক টুইট করে জানিয়েছে যে, কিছু রিপোর্টে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। তবে, এটি স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনও প্রস্তাব বিবেচনাধীন নেই। পাশাপাশি, এটাও বলা হয়েছে যে, নাগরিকদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য এহেন খবর ছড়ানো হচ্ছে এবং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর। জানিয়ে রাখি যে, ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে গত চার বছরে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়েনি। ভারত সরকার এবং তেল সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধি থেকে ভারতীয় নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য ক্রমাগত পদক্ষেপ নিয়ে আসছে।
Ministry of Petroleum & Natural Gas tweets, “There are some news reports suggesting a price hike of petrol and diesel. It is hereby clarified that there is no such proposal under consideration by the Government. Such news items are designed to create fear and panic amongst the… pic.twitter.com/KdhcsHjKUa
— ANI (@ANI) April 23, 2026
এদিকে, কোটাক ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটিজের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতি লিটারে ২৫-২৮ টাকা দাম বৃদ্ধি প্রয়োজন হতে পারে। রিপোর্টে আরও বলা হয়, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলারে থাকায় তেল কোম্পানি এবং সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলি প্রতি মাসে প্রায় ২৭,০০০ কোটি টাকার লোকসান করছে। এই পরিস্থিতি বেশিদিন চলতে পারে না। ওই রিপোর্টে এটাও দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমানে সরকার প্রতি লিটারে ১০ টাকা এক্সাইজ ডিউটি কমানো এবং উইন্ডফল ট্যাক্স চালুর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এগুলি কেবল অস্থায়ী স্বস্তি, কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। সরকার এই সমস্ত দাবি অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: ফিফা বিশ্বকাপের আগে নতুন বিতর্ক! ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন ট্রাম্পের দূতের
অপরিশোধিত তেলের মূল্যের ওপর যুদ্ধের প্রভাব: রিপোর্ট বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কারণ অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা, সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এই কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমাগত বেশি থাকছে। যার ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভারত।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টে বাদ পড়বেন টিম ইন্ডিয়ার এই খেলোয়াড়রা? কী ভাবছে BCCI?
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, যদিও অপরিশোধিত তেল আমদানি ১৩-১৫ শতাংশ কমেছে, কিন্তু উচ্চমূল্যের কারণে মোট আমদানি বিল প্রতিদিন ১৯০-২১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যেটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, আমদানির পরিমাণের চেয়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবই বেশি। তবে, সরকার কোটাকের রিপোর্টের মাধ্যমে প্রকাশিত সমস্ত খবরকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছে।

















