মর্মান্তিক দুর্ঘটনাই বদলে দেয় ভাবনা! শিশু-বয়স্কদের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে যা করলেন অভিষেক, জানলে চমকে উঠবেন

Published on:

Published on:

Follow

মুম্বাইয়ের বাসিন্দা অভিষেক বাহেতির জীবনে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনাই বদলে দেয় সবকিছু। সেখান থেকেই আজ যে কারণে তিনি সফল (Success Story) তার আইডিয়া আসে। পরিবারের দুই ছোট সদস্য, ভাইঝি ও ভাইপো একটি অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানোর পর তাঁদের মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সেই সময় জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাহায্য পৌঁছনোর কোনও ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের বাঁচানো যায়নি। এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এমন একটি প্রযুক্তি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন, যা বিপদের মুহূর্তে তৎক্ষণাৎ সতর্কবার্তা পাঠাতে সক্ষম হবে।

অভিষেক বাহেতির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

এই ভাবনারই বাস্তব রূপ ‘WatchOut Wearables’। স্টার্টআপটি মূলত শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ধরনের স্মার্টওয়াচ তৈরি করে। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও অভিষেক ধীরে ধীরে উদ্যোক্তার পথে হাঁটেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি পণ্য তৈরি করা, যা শুধু প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত নয়, বরং বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম।

আরও পড়ুন: প্রথম দফার ভোটের পরে মানতে হবে একাধিক নির্দেশ! কী জানাল নির্বাচন কমিশন?

এই স্মার্টওয়াচ সাধারণ ডিভাইসের থেকে একেবারেই আলাদা। এতে রয়েছে ৪জি কলিং, বিল্ট-ইন জিপিএস এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য এসওএস বাটন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হল অ্যান্টি-রিমুভাল সেন্সর, কোনো শিশু কবজি থেকে ঘড়িটি খুলে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকদের কাছে নোটিফিকেশন পৌঁছে যায়। পাশাপাশি ভিডিও কলের মাধ্যমে সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং আশপাশের শব্দ শোনার সুবিধাও রয়েছে, যা নিরাপত্তার দিক থেকে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

শুধু শিশুদের জন্য নয়, বয়স্কদের কথা মাথায় রেখেও আলাদা ডিভাইস তৈরি করেছে সংস্থাটি। এই স্মার্টওয়াচগুলিতে শরীরের তাপমাত্রা, রক্তচাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা পর্যবেক্ষণের সুবিধা রয়েছে। এছাড়া অ্যান্টি-ফল সেন্সরের মাধ্যমে কেউ পড়ে গেলে বা দুর্ঘটনার শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে পরিচর্যাকারীদের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

Abhishek Baheti's Success Story will inspire you.

আরও পড়ুন: প্রথম দফার ভোটের পরে মানতে হবে একাধিক নির্দেশ! কী জানাল নির্বাচন কমিশন?

অভিষেকের এই উদ্যোগ জাতীয় স্তরেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার দ্বিতীয় সিজনে তাঁর স্টার্টআপ বিচারকদের নজর কাড়ে। বিশেষ করে অনুপম মিত্তল এবং বিনীতা সিং তাঁর ভাবনা ও পণ্যে মুগ্ধ হয়ে ১ কোটি টাকার বিনিয়োগ করেন। এই সাফল্যের (Success Story) পর সংস্থার বিক্রি ও ব্র্যান্ড মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার ব্যবহারকারী এই ডিভাইস ব্যবহার করছেন। ভবিষ্যতে আরও সাশ্রয়ী দামে এই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন অভিষেক বাহেতি।