বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই সম্পন্ন হল। ১৫২টি আসনে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গড়ে প্রায় ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ইতিমধ্যেই এক নজিরবিহীন পরিসংখ্যান। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) মতে, রাতের চূড়ান্ত হিসেব সামনে এলে এই হার আরও বাড়তে পারে এবং তা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বকালীন রেকর্ড গড়তে পারে। ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং সুষ্ঠু পরিবেশ মিলিয়ে প্রথম দফা কার্যত উৎসবের আবহেই শেষ হয়েছে।
২য় দফার ভোটেও কমিশনের (Election Commission of India) একাধিক নির্দেশিকা জারি বাংলায়
ভোটের দিন বড় ধরনের অশান্তির কোনও খবর সামনে আসেনি। বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ থাকলেও তা দ্রুত সামাল দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। বুথে বুথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের নজরদারিতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে এগিয়েছে। ফলে আগের মতো বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের মতো অভিযোগ প্রায় শোনা যায়নি বলেই দাবি প্রশাসনের।
আরও পড়ুন: বঙ্গে বিধানসভা ভোটে জিতবে কে? নির্বাচনের ফলাফলের পূর্বাভাসের ওপর নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মে চলছে ট্রেডিং
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই নির্বাচন কমিশনের তরফে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বুথে থাকা ক্যামেরার SD কার্ড ভোট শেষের পর কোনও অবস্থাতেই খোলা যাবে না। ক্যামেরাগুলি কেবলমাত্র খুলে সেক্টর অফিসারের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে। পরে নির্দিষ্ট রিসিভিং সেন্টার বা DCRC-তে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের উপস্থিতিতে SD কার্ড খোলা হবে এবং সমস্ত ভিডিও ডেটা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
এছাড়াও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ক্যামেরা সম্পূর্ণ অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও পোলিং পার্টি সদস্য বা বুথ লেভেল অফিসার বুথ ছাড়তে পারবেন না। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল ভোটগ্রহণের প্রতিটি মুহূর্তের রেকর্ড সুরক্ষিত রাখা এবং পরবর্তী সময়ে কোনও অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ যাচাই সম্ভব করা। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই নিয়মগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ওয়েব কাস্টিংয়ের ট্রায়াল রান শুরু হবে, যা তিনটি শিফটে পরিচালিত হবে। ২৪ ঘণ্টার নজরদারির জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ এবং কমিশনের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। এই গোটা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে দিল্লিতে অবস্থিত কমিশনের (Election Commission of India) সদর দপ্তর থেকেও। সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার সমন্বয়ে পরবর্তী দফার ভোট আরও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

















