বাংলা হান্ট ডেস্ক: তিনি ক্রিকেটের ‘ঈশ্বর’। সমগ্র বিশ্বজুড়েই রয়েছে তাঁর অগণিত অনুরাগীর সংখ্যা। অবসরের পরেও ক্রিকেটের ময়দানে তাঁর আভা এতটুকুও ম্লান হয়নি। এমতাবস্থায়, শুক্রবার অর্থাৎ ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ৫৩ বছরে পা দিলেন সচিন তেন্ডুলকার (Sachin Tendulkar)। ক্রিকেটের দুনিয়ায় দাপট দেখানোর পাশাপাশি ব্যবসায়িক জগতেও নিজের দক্ষতা প্রকাশ করেছেন সচিন। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সচিনের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১৭০ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১,৪১৫ কোটি টাকা)। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তিনি কেবলমাত্র ২০২৫ সালেই বিনিয়োগ এবং ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আয় করেছেন।
স্টার্টআপে বিনিয়োগ করে বিশাল সাম্রাজ্য গড়েছেন সচিন (Sachin Tendulkar):
জানিয়ে রাখি যে, সচিন এখন শুধু একজন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরই নন, বরং তিনি একজন বিচক্ষণ বিনিয়োগকারীও বটে। সচিন টেকনোলজি থেকে শুরু করে, সাস্টেনেবিলিটি এবং কনজিউমার সেক্টর জুড়ে ১৪ টিরও বেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। ইউজড কার মার্কেটে দ্রুত বর্ধনশীল কোম্পানি স্পিনি-তে তাঁর একটি বড় বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়াও তিনি গেমিং এবং ডিজিটাল কন্টেন্টের ওপর দৃষ্টি ননিক্ষেপকারী কোম্পানি জেটসিনথেসিস-এ বিনিয়োগ করেছেন। এদিকে, সচিন গ্রিন এনার্জি সেক্টরে দ্রুত উদীয়মান সংস্থা ট্রুজোন সোলারে প্রায় ৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আরআরপি ইলেকট্রনিক্সের মতো সংস্থাতেও তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়াও জেপ্টো থেকে শুরু করে ভাহদাম এবং পিবি ফিনটেকের মতো স্টার্টআপগুলিতেও বিনিয়োগ রয়েছে তাঁর।

নিজের ব্র্যান্ডগুলি থেকেও বিপুল আয় করছেন: সচিন তাঁর নিজের কিছু বিজনেস ভেঞ্চার্স শুরু করেছেন। যেগুলির মধ্যে রয়েছে টেন এক্স ইউ। এটি তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে তৈরি একটি নতুন স্পোর্টসওয়্যার ও ফিটনেস ব্র্যান্ড। এছাড়াও রয়েছে ট্রু ব্লু। এটি অরবিন্দ ফ্যাশনের সঙ্গে যৌথভাবে চালু করা একটি পুরুষদের পোশাকের ব্র্যান্ড। এর পাশাপাশি রয়েছে এসআরটি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট। এই সংস্থাটি সচিনের সমস্ত কমার্শিয়াল ডিলস, ডিজিটাল প্রজেক্টস এবং স্পোর্টস অ্যাক্টিভিটিজ ম্যানেজ করে।
আরও পড়ুন: IPL ২০২৬-এ এন্ট্রি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ের! খেলবেন এই দলে
ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা আয়: সচিন বর্তমানে ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে অন্যতম বিশ্বস্ত মুখ। তিনি অ্যাপোলো টায়ার্স থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, তানিশক, জিলেট এবং লুমিনাস পাওয়ার টেকনোলজিসের মতো প্রধান ব্র্যান্ডগুলির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: লাফিয়ে বাড়ছে সম্পদ, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনকুবেরদের তালিকায় দাপট আদানির! কোথায় দাঁড়িয়ে আম্বানি?
রিয়েল এস্টেটেও বিনিয়োগ: উল্লেখ্য যে, সচিনের সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করা রয়েছে। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় তাঁর একটি বিলাসবহুল বাংলো, দক্ষিণ মুম্বাইয়ে একটি ফ্ল্যাট এবং আলিবাগে একটি প্রপার্টি রয়েছে। এই সম্পত্তিগুলির সম্মিলিত মূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি বলে অনুমান করা হয়। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে দেখতে গেলে সচিন ক্রিকেটের ময়দানে যেমন বিরাট সাফল্য অর্জন করেছেন, ঠিক তেমনি ব্যবসায়িক জগতেও তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র স্থান তৈরি করেছেন। মূলত, সঠিক বিনিয়োগ, শক্তিশালী ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের কারণে সচিন নিয়মিত বিপুল আয় করছেন।

















