বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার ট্রাফিক সিগন্যালে (Traffic Signal) অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করার সমস্যার শীঘ্রই অবসান ঘটতে পারে। কারণ, ট্রাফিক সিগন্যালগুলি এবার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা AI দ্বারা সজ্জিত হবে। ইতিমধ্যে গুজরাটের আহমেদাবাদে এই সংক্রান্ত একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় শহরের ১০ টি প্রধান মোড়ে অ্যাডাপ্টিভ ট্র্যাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম তথা ATCS স্থাপন করা হচ্ছে। যেগুলির সম্পূর্ণরূপে AI দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। এর ফলে সিগন্যালে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হবে না।
এবার ট্রাফিক সিগন্যালে (Traffic Signal) বাঁচবে সময়:
জানিয়ে রাখি যে, আহমেদাবাদ প্রশাসনের এই প্রকল্পটিকে স্মার্ট আরবান মোবিলিটির একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ সফল হলে, গুজরাট এবং সারাদেশের অন্যান্য শহরেও AI ট্রাফিক সিগন্যাল দেখা যেতে পারে। আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই এটির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করছেন। ভবিষ্যতে ফলাফল ভালো মিলে, এই AI বেসড ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম আহমেদাবাদের অন্যান্য মোড়েও বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

অ্যাডাপ্টিভ ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম কী: উল্লেখ্য যে, এই নতুন চালু হওয়া সিস্টেমটি রিয়েল টাইমের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণ ট্রাফিক লাইটের মতো এতে কোনও নির্দিষ্ট টাইমার নেই। তার পরিবর্তে, এই AI বেসডি সিস্টেমটি ক্রমাগত রাস্তার ট্রাফিক বিশ্লেষণ করে এবং সেই অনুযায়ী সিগন্যালের সময় সমন্বয় করে। এই ব্যবস্থাটি শহরের প্রধান প্রধান সংযোগস্থলে স্থাপিত ক্যামেরা ও সেন্সরের একটি নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে। এই ডিভাইসগুলি যানবাহনের সংখ্যা থেকে শুরু করে সেগুলির গতি এবং লেন ব্যবহারের ওপর নজর রাখে। যার ফলে সার্বক্ষণিক যান চলাচলের পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: ৫৩ বছরে পা দিলেন সচিন! অবসরের পরেও কোটি কোটি টাকা আয়, কীভাবে গড়লেন বিপুল সাম্রাজ্য?
এই সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য: AI ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল পরিবর্তিত ট্রাফিক পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা। অর্থাৎ, সোজা কথায় বলতে গেলে যদি কোনও সিগন্যালের সময়কাল ৫০ সেকেন্ড নির্ধারণ করা থাকে, তবে তার আগেই ট্রাফিক ফাঁকা হয়ে গেলে AI সেই সময় কমিয়ে আনতে পারে। যদি কোনও লেন ২০ সেকেন্ডের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যায়, তবে বাকি সময়টুকু অন্য একটি বেশি ভিড়যুক্ত সিগন্যালে স্থানান্তরিত হয়। এই ধারাবাহিক পরিবর্তন ট্রাফিককে মসৃণ করে এবং ফাঁকা মোড়ে অপ্রয়োজনীয় থামা প্রতিরোধ করে। এই সিস্টেমের উদ্দেশ্য হল, যানবাহনগুলি যেন পূর্বনির্ধারিত সংকেতের সময়ের কারণে থামতে বাধ্য না হয়ে এবং অবিরাম চলতে থাকে।
আরও পড়ুন: IPL ২০২৬-এ এন্ট্রি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ের! খেলবেন এই দলে
নিত্যযাত্রীদের জন্য সুবিধা: প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসারে, এই প্রকল্পের ফলে যান চলাচলে সুস্পষ্ট উন্নতি দেখা গেছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, যানজট কমে যাওয়ায় যাতায়াতের সময়ও কমেছে। এছাড়াও, এই ব্যবস্থাটি জ্বালানি খরচ কমাতেও সাহায্য করছে। কারণ যানবাহনগুলিকে সিগন্যালে কম সময় ব্যয় করতে হয়। এই ব্যবস্থাটি গ্রীষ্মকালে বিশেষভাবে উপকারী বলে প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ, এই সময়ে ট্রাফিক সিগন্যালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা কষ্টকর এবং সময়সাপেক্ষ হতে পারে। প্রাথমিক তথ্য থেকে আরও দেখা গেছে যে, যেসব এলাকায় এই ব্যবস্থাটি চালু রয়েছে, সেখানে যান চলাচলে প্রায় ১৮ শতাংশের উন্নতি হয়েছে।

















