বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূল, দুই শিবিরই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। এই পরিস্থিতিতেই ভোটের ফল ঘোষণার আগেই বড় দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
কী বললেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)?
শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দাবি করেন, ৪ মে ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিই সরকার গঠন করবে। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য ‘ধ্বংসের পথে’ এগিয়েছে এবং এবার সাধারণ মানুষ ভোটের মাধ্যমেই তার জবাব দেবেন। ভোটের ইস্যু হিসেবে তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন ‘ভোট ব্যাঙ্ক রাজনীতি’ এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগ। শুভেন্দুর দাবি, সীমান্ত রক্ষার কাজে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি না দেওয়ার ফলে রাজ্যের জনবিন্যাসে পরিবর্তন ঘটছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৯টি জেলা মুসলিম প্রধান হয়ে উঠেছে, যা তিনি নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? কী বললেন শুভেন্দু
নিজে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে আছেন কি না এদিন এই প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, সরকার গঠনের পর দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করবে। তবে আসন সংখ্যা নিয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। প্রথম দফার ভোটেই বিজেপি ১১০টি আসন পাবে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, তৃণমূলের ‘দুঃশাসন ও লুটপাটের’ অবসান খুব শীঘ্রই হতে চলেছে।
অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কাটোয়ার জনসভা থেকে জয়ের ব্যাপারে সমান আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন। তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচন ‘প্রতিবাদের’ এবং ‘প্রতিশোধের’ ভোট। তিনি বলেন, তৃণমূল এবার ২২৫-র বেশি আসন পাবে এবং বিজেপি ৫০-র গণ্ডিও পেরোতে পারবে না। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা, মূল্যবৃদ্ধি এবং চাকরির প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগও তোলেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, ৪ মে-ই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি বাংলার বিভিন্ন প্রকল্প বন্ধ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু রাজ্যের মানুষ সেই চেষ্টার জবাব দেবে ভোটে।

আরও পড়ুনঃ অভিনয় ছেড়ে রাজনীতি? ভোটের আগে নতুন ভূমিকায় পরমব্রত, তৃণমূলের হয়ে প্রচার শুরু
তবে এদিন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) শুধু সরকার গড়ার কথা নয়, রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখন অপেক্ষার ৪ মে ভোটের ফলাফলের।

















