বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর এখন নতুন সরকার গঠনের অপেক্ষা। এই অবস্থায় ক্ষমতায় এলে কী কী করবে BJP, সেই পরিকল্পনার একটা ছবি সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, মহিলাদের জন্য টাকা, চাকরি, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা, একাধিক ক্ষেত্রে বড় বদল আনার কথা ভাবছে তারা।
বাংলার জন্য কী কী প্রতিশ্রুতি বিজেপি (BJP) সরকারের?
১) সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভাতেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মহিলাদের নিরাপত্তা এবং যুবকদের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছে দল।
2) রাজ্যে অনুপ্রবেশ রুখতে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ নীতি নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু এবং ৬ মাসের মধ্যে অষ্টম বেতন কমিশনের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
৩) মধ্যবিত্ত ও গরিব মহিলাদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি প্রসূতিদের হাসপাতালে সন্তান জন্মদানের ব্যবস্থা, নারীদের স্বাস্থ্য পরিষেবা বৃদ্ধি এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে টিকাকরণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
৪) আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ছ’মাসের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালুর কথা বলা হয়েছে। সীমান্তে গরু পাচার বন্ধ করতেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
৫) মহিলাদের সুরক্ষার জন্য ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ নামে বিশেষ বাহিনী গঠন এবং সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
৬) যুব সমাজের জন্য ক্ষুদ্র শিল্প বাড়িয়ে কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
৭) দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে আগের সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছে BJP। পাশাপাশি দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পৃথক শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হতে পারে।
৮) কৃষিক্ষেত্রে ধান, আলু ও আম চাষে বিশেষ সাহায্য এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র আওতায় এনে রাজ্যকে বড় মাছ রপ্তানিকারক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ভবানীপুরে থমকে গণনা! কাঠগড়ায় মমতার এজেন্ট, কী ঘটেছে?
৯) উত্তরবঙ্গের উন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে পুরনো চা বাগানের উন্নয়ন, দার্জিলিং চায়ের ব্র্যান্ডিং এবং পাটশিল্প আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ‘বন্দে মাতরম সংগ্রহশালা’ তৈরির কথাও বলা হয়েছে (BJP)।













