যে সরকারি ব্যাঙ্কে করতেন সুইপারের কাজ, আজ তিনি সেখানকার AGM! অবাক করবে প্রতীক্ষার কাহিনি

Published on:

Published on:

Pratiksha Tondwalkar success story will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজকের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) মুম্বইয়ের এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে প্রতীক্ষা টন্ডওয়ালকারের। জীবনের শুরুটা ছিল কঠিন সংগ্রামে ভরা। সংসারের আর্থিক অনটনের কারণে দশম শ্রেণির পড়াশোনাও শেষ করতে পারেননি তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয় সদাশিব কাডুর সঙ্গে, যিনি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ায় বই বাঁধাইয়ের কাজ করতেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারান প্রতীক্ষা। মাত্র ২০ বছর বয়সে সন্তানকে নিয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।

প্রতীক্ষা টন্ডওয়ালকারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

স্বামীর মৃত্যুর পর সংসার চালানোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চশিক্ষা না থাকায় ভালো চাকরি পাওয়ার সুযোগও ছিল না। বাধ্য হয়ে মুম্বইয়ের স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ শুরু করেন প্রতীক্ষা। শৌচাগার পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে আসবাবপত্র ঝাড়পোঁছ, সব কাজই করতে হতো তাঁকে। সেই কাজের জন্য মাসে মিলত মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অল্প টাকায় সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানের দায়িত্বও সামলাতে হতো তাঁকে। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতির কাছেও হার মানতে রাজি ছিলেন না প্রতীক্ষা।

আরও পড়ুন:বিরাট ব্যবধানে হারিয়েছেন তৃণমূলকে, এবার মন্ত্রী হচ্ছেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ?

জীবনের সেই কঠিন সময়েই নিজের ভবিষ্যৎ বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দিনের পর দিন কাজ করার পর রাতে ভর্তি হন মুম্বইয়ের ভিখরোলির একটি নৈশ কলেজে। ধীরে ধীরে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন এবং পরে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিও অর্জন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যাঙ্কের কাজও চালিয়ে যান সমান তালে। তাঁর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা দেখে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাঁকে বার্তাবাহক পদে উন্নীত করে। পরে স্নাতক ডিগ্রি সম্পূর্ণ হওয়ার পর তিনি কেরানি-কাম-ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পান।

১৯৯৩ সালে দ্বিতীয় বার বিয়ে করেন প্রতীক্ষা। তাঁর স্বামী প্রমোদ টন্ডওয়ালকর প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁকে উৎসাহ দেন। বিশেষ করে ব্যাঙ্কের পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশ নিতে মানসিক জোর জোগান। সেই অনুপ্রেরণাকেই শক্তি করে একের পর এক পরীক্ষায় সফল হন প্রতীক্ষা। নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা এবং অধ্যবসায়ের জোরে তিনি ট্রেইনি অফিসার পদে উন্নীত হন। তারপর ধাপে ধাপে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এবং শেষ পর্যন্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (AGM) পদে পৌঁছে যান।

Pratiksha Tondwalkar success story will amaze you.

আরও পড়ুন: বঙ্গে পালাবদলের পরেই কড়া দিল্লি! অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বাংলাদেশকে স্পষ্ট বার্তা ভারতের

একসময় যে মহিলা মাসে মাত্র ৬৫ টাকার বিনিময়ে শৌচাগার পরিষ্কার করতেন, তিনিই পরে দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্কের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হন। প্রতীক্ষা টন্ডওয়ালকারের জীবনকাহিনি আজ বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর সাফল্য (Success Story) প্রমাণ করে, প্রতিকূল পরিস্থিতি কখনও স্বপ্নের পথে শেষ কথা হতে পারে না। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং শিক্ষার শক্তিই মানুষকে জীবনের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।