বাংলা হান্ট ডেস্ক : চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath) হত্যাকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের খুনের ঘটনায় এবার STF-র হাতে ধরা পড়েছে তিন সন্দেহভাজন। উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে রাজ সিংয়ের (Raj Singh) নাম। মনে করা হচ্ছে, চন্দ্রনাথ খুনে তিনি মূল অভিযুক্ত। রাজ সিংকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক তথ্য সামনে এসেছে।
চন্দ্রনাথ(Chandranath Rath) খুনে অভিযুক্ত রাজ সিংয়ের পরিচয়
উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার আনন্দ নগরের বাসিন্দা এই ব্যক্তি যুক্ত রাজনীতির সাথে। জানা গিয়েছে, একসময় বালিয়ার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে ‘অল ইন্ডিয়া ক্ষত্রিয় মহাসভা’-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বলেও দাবি করত রাজ। পাশাপাশি, চিলখর ব্লক প্রধানকে নিয়ে তার একটি ‘মিশন ২০২৬’ পোস্টও নজরে এসেছে।
রাজের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ। কয়েক বছর আগে এক ডিম বিক্রেতাকে গুলি করার ঘটনায় তার নাম জড়িয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে অপরাধ জগতের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও রাজ পড়াশোনায় পিছিয়ে ছিল না। মহাত্মা গান্ধী কাশী বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করেছিলেন। স্থানীয় মহলে তার যথেষ্ট প্রভাব ছিল বলে সূত্রের খবর।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লখনউয়ে একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় অযোধ্যা এলাকায় রাজ সিংকে আটক করা হয়। একই মামলায় আরও দুই অভিযুক্ত ময়ঙ্ক মিশ্র ও ভিকি মৌর্যকে বিহারের বক্সার জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে, ছেলের গ্রেফতারের পর সরব হয়েছেন রাজ সিংয়ের মা জামবন্তী সিং। তিনি আজমগড়ের ডিআইজি-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে নির্দোষ। তাঁর বক্তব্য, ৯ মে সকালে তিনি এবং তাঁর ছেলে অযোধ্যায় মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথেই পুলিশ আচমকা রাজকে তুলে নিয়ে যায়। অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই তাঁর ছেলেকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : কোভিডে ব্যবসা বন্ধ, অথচ অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা! সুজিতকে ঘিরে ইডির চাঞ্চল্যকর দাবি
অন্যদিকে, এই খুনের তদন্তভার এখন সিবিআই-এর হাতে। সিবিআই-এর বিশেষ দল রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। চন্দ্রনাথ রথ খুন মামলায় একের পর এক গ্রেফতারি এবং সিবিআই তদন্ত শুরু হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও বড় কোনও চক্রান্তের ইঙ্গিত মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের। আগামী দিনে এই মামলায় আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।













