বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে ধর্মীয় আচার বা পশুবলির নামে অনিয়ন্ত্রিত পশুহত্যা রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার (Government of West Bengal)। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নিয়ম না মেনে বা প্রকাশ্যে পশুবলি দিলে তা আইনের চোখে অপরাধ বলে গণ্য হবে। বিশেষ করে গরু, বলদ, মহিষ বা বাছুরের মতো গবাদি পশু বলির ক্ষেত্রে একাধিক বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করেছে প্রশাসন। সরকারের দাবি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের (Government of West Bengal) পশু বলির নির্দেশিকা
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশুবলি দেওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মানতেই হবে। কোনো পশুকে বলি দেওয়ার আগে সেটি আদৌ বলির উপযুক্ত কি না, সেই মর্মে সরকারি অনুমোদিত শংসাপত্র নিতে হবে। এই শংসাপত্র সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশুচিকিৎসক যৌথভাবে অনুমোদন দিলে তবেই সেই পশুকে বলির ছাড়পত্র মিলবে।
পশুর বয়সের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ম আনা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পশুটির বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে। অন্যথায়, বার্ধক্য, গুরুতর আঘাত বা দুরারোগ্য অসুস্থতার কারণে যদি পশুটি স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তবেই বলির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। প্রশাসন আরও জানিয়েছে, শংসাপত্র থাকলেও যত্রতত্র পশুবলি দেওয়া যাবে না। রাস্তা, খোলা জায়গা বা জনসমক্ষে এই ধরনের বলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র সরকার বা প্রশাসনের অনুমোদিত কসাইখানাতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
যদি কোনো ব্যক্তি শংসাপত্র না পান, তাহলে তিনি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল জানাতে পারবেন। একইসঙ্গে ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ কার্যকর করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা সরকারি পশুচিকিৎসকরা বলিপ্রাঙ্গণ পরিদর্শনে গেলে তাঁদের কাজে বাধা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় হবে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, কলকাতা হাইকোর্ট পূর্বে প্রকাশ্য পশুবলি ও বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গণ-বলি নিয়ন্ত্রণে একাধিক নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই পুরনো আইনকে আরও কঠোরভাবে কার্যকর করার পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়টিও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই নিয়ম ভাঙলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা জেল ও জরিমানা— দেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন : আবেদনপত্রে ছোট ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় সমস্যা, আটকে যেতে পারে আয়ুষ্মান কার্ড
নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, এটি পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা কমানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আবার অন্য মহলের দাবি, ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়তে চলেছে। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, আইন মেনেই সমস্ত ধর্মীয় কার্যকলাপ পরিচালনা করতে হবে এবং জনসমক্ষে অনিয়ন্ত্রিত পশুবলি আর বরদাস্ত করা হবে না।













