তেলের টানাপোড়েনে নতুন কৌশল দিল্লির!ডিজেল-বিমান জ্বালানিতে কর ছাড়, পেট্রলে বাড়ল শুল্ক

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি (Fuel Crisis) বাজারে অস্থিরতা চরমে, তখন দেশের নাগরিকদের জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পেট্রল-ডিজেলের সম্ভাব্য সংকট এবং দেশের পেট্রোলিয়াম মজুত নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই আবহেই কেন্দ্রীয় সরকার ডিজেল এবং বিমান জ্বালানির রপ্তানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিল। তবে একই সঙ্গে পেট্রলের উপর রপ্তানি কর বাড়িয়ে নতুন ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করেছে কেন্দ্র।

জ্বালানি সঙ্কটের (Fuel Crisis) মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন শুল্ক কাঠামো। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিজেলের উপর রপ্তানি শুল্ক লিটার প্রতি ২৩ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬.৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা বিমান জ্বালানির উপর রপ্তানি শুল্ক ৩৩ টাকা থেকে নামিয়ে ১৬ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে পেট্রলের উপর রপ্তানি শুল্ক ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে পেট্রলের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে ১৬.৫ টাকা রপ্তানি শুল্ক দিতে হবে।

আরও পড়ুন: পাহাড়, সবুজ আর শান্ত পরিবেশের টানে এবারের সামার ভ্যাকেশনের ডেস্টিনেশন হতে পারে পুরুলিয়ার এই প্লেস

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে দেশে পেট্রল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও ভোটপর্ব শেষ হতেই শুক্রবার থেকে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটে তেল সংস্থাগুলি। কলকাতায় বর্তমানে পেট্রলের দাম লিটারপিছু ১০৮.৭৪ টাকা এবং ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৫.১৩ টাকা। পাশাপাশি সিএনজির দামও প্রতি কেজিতে ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানি শুল্ক কমানো মানে পরোক্ষে আরও বেশি রপ্তানিকে উৎসাহ দেওয়া। এর ফলে ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। যদিও সরকারি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Modi govt took a big Decision Amidst Fuel Crisis

আরও পড়ুন: যাত্রীদের জন্য জরুরি ঘোষনা, শনিবার বদলে যাচ্ছে হাওড়া-বর্ধমান মেমু ট্রেনের রুট

সরকারের যুক্তি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাগাতার বাড়তে থাকায় ভারতীয় তেল সংস্থাগুলিকে বিপুল লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। ডিজেল এবং বিমান জ্বালানির (Fuel Crisis) উপর শুল্ক কমালে রপ্তানিতে কিছুটা গতি আসবে এবং সংস্থাগুলির আয়ও বাড়বে। অন্যদিকে পেট্রলের উপর কর বৃদ্ধি করে বাজারে একটি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে ভবিষ্যতে আরও কিছু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে কেন্দ্রীয় সূত্রে।