বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের সর্বোচ্চ আদালতে (Supreme Court of India) বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত! সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে রবিবার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শীর্ষ আদালতে বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকও অতিরিক্ত চার বিচারপতির নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিচারব্যবস্থার উপর ক্রমবর্ধমান মামলার চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) বাড়ছে বিচারপতির সংখ্যা, জারি বিজ্ঞপ্তি:
এর আগে গত ৫ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল। প্রায় ছ’বছর পর আবার বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। মূলত সুপ্রিম কোর্টে জমে থাকা বিপুল সংখ্যক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে শুনানির সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কংগ্রেস কার্যালয়ে একী কাণ্ড! ৭৩ টি দামি কল চুরি করে চোরের দল লিখে গেল ‘লাভ ইউ’
রাষ্ট্রপতির জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে সংসদের অধিবেশন না থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে। কেন্দ্রের মতে, বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা বজায় রাখতে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা প্রয়োজন ছিল। তবে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে এই অধ্যাদেশ বিল আকারে পেশ করে আইন হিসেবে পাশ করানো হতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।
ভারতের সংবিধানের ১২৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে একজন প্রধান বিচারপতি এবং সংসদ নির্ধারিত সংখ্যক বিচারপতি থাকেন। স্বাধীনতার পর ধাপে ধাপে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৫৬ সালে যেখানে বিচারপতির সংখ্যা ছিল মাত্র ১০, সেখানে ১৯৬০ সালে তা বেড়ে হয় ১৩। পরে ১৯৭৭ সালে ১৭, ১৯৮৬ সালে ২৫ এবং ২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০-এ। শেষবার ২০১৯ সালে বিচারপতির সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৩ করা হয়েছিল।

এবার নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিচারপতির সংখ্যা ৩৭-এ পৌঁছবে। এর বাইরে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামো মজবুত করার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারপতির সংখ্যা বাড়লে মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের (Supreme of India) উপর প্রশাসনিক চাপও কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।













