বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের (India-Bangladesh) সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনেকটাই ফরাক্কা চুক্তির উপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করলেন বাংলাদেশের মন্ত্রী তথা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি দাবি করেন, গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে নতুন করে সমঝোতা না হলে দুই দেশের সম্পর্কের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই ফরাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সেই কারণে দ্রুত সাধারণ মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন চুক্তি সম্পাদনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনও সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
কোন চুক্তির ওপর নির্ভর করছে ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সুসম্পর্ক?
বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৬ মে ‘ফরাক্কা দিবস’ পালন করা হয়। সেই উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফখরুল বলেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির উপর। তাঁর কথায়, “ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ এসেছে। তবে তা নির্ভর করবে ফরাক্কা চুক্তি সম্পাদনের উপর।” একই সঙ্গে দিল্লির উদ্দেশে তিনি বার্তা দেন যে, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
আরও পড়ুন: শুধু QR কোড আর ছবি নিয়ে নতুন আধার কার্ড? সামনে এল বড় আপডেট
ফরাক্কা বাঁধ নিয়ে আগেও একাধিকবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি। শুক্রবারও ফখরুল দাবি করেছিলেন, ফরাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য কার্যত ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভারত সীমান্তবর্তী একাধিক নদীর উপর ধারাবাহিক ভাবে বাঁধ নির্মাণ করে জল সরিয়ে নিচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি এবং নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা বিপদের মুখে পড়ছে। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অস্তিত্বের পক্ষেও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। শনিবারের বক্তব্যে তিনি সেই প্রসঙ্গ টেনেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে জলবণ্টন ইস্যুকে জুড়ে দেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের অগস্টে গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন এবং পরে ভারতে আশ্রয় নেন। এর পর প্রায় দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকার চালায় দেশটি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং প্রধানমন্ত্রী হন তারেক রহমান। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের উপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে ঢাকা। ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়েছে, যদিও দিল্লির তরফে এখনও কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরেই জ্বালানির বিশাল ভাণ্ডার? খুঁজতে চলেছে মোদী সরকার! কোথায় কোথায় হবে সার্ভে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নের পাশাপাশি এবার ফরাক্কা চুক্তিকেও কূটনৈতিক চাপের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বিএনপি সরকার। কারণ গঙ্গার জলবণ্টন শুধু পরিবেশ বা কৃষির প্রশ্ন নয়, তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। ফলে আগামী কয়েক মাসে ফরাক্কা চুক্তি নিয়ে দিল্লি ও ঢাকার (India-Bangladesh) মধ্যে আলোচনা কোন দিকে এগোয়, তার উপরই নির্ভর করবে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণ।













