বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত (India) সহ রাশিয়া (Russia) থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর চাপ বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল আমেরিকা (America)। মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়েছে। এর আগে গত অগস্টে বিলটি সেনেটেও অনুমোদিত হয়েছিল। ফলে এবার সেটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো হয়েছে। ট্রাম্প স্বাক্ষর করলে এটি আইনে পরিণত হবে। তবে বিলটি সরাসরি ভারত বা চিনের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাচ্ছে না; বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হচ্ছে।
রুশ তেল কেনায় ভারতের (India) ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবেন ট্রাম্প?
বিলটি ঘিরে ভারতের (India) নাম বিশেষভাবে উঠে আসার কারণ, রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনে নয়াদিল্লি। একইভাবে চিনও রুশ জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা। ফলে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ওয়াশিংটন যদি এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাহলে ভারতীয় ও চিনা পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে ঠিক কতটা শুল্ক, কোন পণ্যের উপর এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প জানালেন শুভেচ্ছা! পুতিন করলেন প্রশংসা, মোদীর জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে শুভেচ্ছার বন্যা
এই বিলের পিছনে মূল লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া রাজস্বের উপর চাপ তৈরি করা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমানো। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই মস্কোর বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা। নতুন আইনে রুশ জ্বালানি ক্ষেত্রের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহণে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে। একই প্যাকেজে ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এই বিলের যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্যোগে। ২০২৫ সালে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব তুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই উদ্যোগ নতুন আকারে কংগ্রেসে এগোয় এবং এবার দুই কক্ষেই অনুমোদন পেল। হাউসের ভোটাভুটিতে রিপাবলিকানদের পাশাপাশি ৫৮ জন ডেমোক্র্যাটও বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। যদিও ডেমোক্র্যাটদের একাংশ প্রেসিডেন্টের হাতে এতটা বিস্তৃত শুল্কক্ষমতা তুলে দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই ক্ষমতার ব্যবহার মিত্র দেশগুলির ক্ষেত্রেও বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: মাত্র ১০ লক্ষ টাকায় শুরু! আজ গড়েছেন ৪,৯০০ কোটির কোম্পানি, GIVA-র সাফল্যের নেপথ্যে ঈশেন্দ্র
ভারত (India) অবশ্য জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থই তাদের কাছে অগ্রাধিকার। বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং দেশের ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহের নীতি বজায় থাকবে। অন্যদিকে চিনও মার্কিন এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে বলেছে, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে ট্রাম্পের সইয়ের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে পরবর্তী প্রশ্ন হবে—ওয়াশিংটন আদৌ সেই শুল্কক্ষমতা ব্যবহার করবে কি না এবং করলে ভারত, চিন-সহ রুশ জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির উপর তার প্রভাব কতটা পড়বে।













