যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানের হরমুজ সংলগ্ন বন্দরে মার্কিন হামলা! নতুন সংঘাতের আশঙ্কা

Published on:

Published on:

Amidst ceasefire US Attack on Iranian Port near Hormuz raise new concern.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরান-আমেরিকা (US Attack) সংঘাত ঘিরে যখন কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল, ঠিক সেই সময় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি। সোমবার গভীর রাতে দক্ষিণ ইরানের হরমুজ় প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। যদিও হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান প্রথমে স্পষ্ট করা হয়নি, তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হামলা থেকে নিজেদের সেনাকে রক্ষা করতেই এই ‘আত্মরক্ষামূলক অভিযান’ চালানো হয়েছে। ফলে চলমান সংঘর্ষবিরতির মধ্যেও ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা অঞ্চলে।

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানের হরমুজ সংলগ্ন বন্দরে মার্কিন হামলা (US Attack)!

বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। পরমাণু ইস্যু এবং হরমুজ় প্রণালী ঘিরে সামরিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক আলোচনা চালাচ্ছে উভয় পক্ষ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, সামরিক পদক্ষেপের আগে কূটনৈতিক সমাধানের সব রাস্তা খোলা রাখতে চান তিনি। কিন্তু সেই বক্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ ইরানের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত থেকে বন্দর আব্বাস শহরের বিভিন্ন এলাকায় টানা বিস্ফোরণ হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মার্কিন সেনা নিশ্চিত করে যে তারা দক্ষিণ ইরানে সীমিত হামলা চালিয়েছে।

আরও পড়ুন: এই প্রকল্পের ছাত্র-ছাত্রীরা পাবেন ১ লক্ষ টাকা, কীভাবে আবেদন করবেন জানুন বিস্তারিত

হরমুজ প্রণালীর ধারে অবস্থিত বন্দর আব্বাস ইরানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত কেন্দ্র। এই শহরে ইরানের নৌবাহিনী ও বায়ুসেনার একাধিক ঘাঁটি রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহণ হয় হরমুজ় প্রণালী দিয়ে। ফলে এই এলাকায় যে কোনও সামরিক সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক বাজার এবং জ্বালানি সরবরাহের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স সিএনএন-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং হরমুজ় প্রণালীতে মাইন পেতে থাকা কিছু নৌযানকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, মার্কিন বাহিনী কেবলমাত্র নিজেদের সেনা ও যুদ্ধজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ করেছে।

এই প্রথম নয়, সংঘর্ষবিরতির মধ্যেও এর আগেও একাধিকবার আমেরিকা (US Attack) ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেই আমেরিকা অভিযোগ তোলে যে, ইরানের পক্ষ থেকে তাদের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের জবাবে ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের ‘উস্কানিমূলক পদক্ষেপ’ মোকাবিলায় মার্কিন সেনাকে অতীতে সবুজ সংকেতও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে সোমবার রাতের হামলাকে অনেকেই পূর্ব পরিকল্পিত কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।

অন্যদিকে মঙ্গলবার ভোরে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, বন্দর আব্বাস শহরে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। যদিও প্রথম বিবৃতিতে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। পরে আরও একটি বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, শহরের বিমানবন্দরের কাছেও বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণ ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের পর গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সামরিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। যদিও হতাহতের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি তথ্য সামনে আসেনি।

 Amidst ceasefire US Attack on Iranian Port near Hormuz raise new concern.

আরও পড়ুন: পেট্রল-ডিজেলের পর এবার সিএনজিতেও ধাক্কা, ১১ দিনে চতুর্থবার বাড়ল গ্যাসের দাম

বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও বাস্তবে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে অবিশ্বাসের মাত্রা এখনও অত্যন্ত বেশি। হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং বারবার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে বড়সড় সংঘাত শুরু হতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারেও পড়বে। আপাতত গোটা বিশ্বের নজর এখন আমেরিকা (US Attack) ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।