বাংলা হান্ট ডেস্ক : বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে (Kakoli Ghosh Dastidar) ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ল। সাংগঠনিক স্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা মতপার্থক্যের আবহের মধ্যেই এবার দলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে চিঠি পাঠিয়ে নিজের সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন কাকলি।
ইস্তফা দিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তের আগেই, তাঁকে দেখা গিয়েছিল কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে। যদিও ওই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার ব্যাপারে দলের তরফে মৌখিক বার্তা ছিল বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। তা সত্ত্বেও সেখানে উপস্থিত হন বারাসতের সাংসদ। পরে শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে জানান, কাকলি তাঁকে বলেছেন, “এতদিনে স্বাধীনতা পেলাম।” সেই মন্তব্য সামনে আসতেই নতুন করে শুরু হয় রাজনৈতিক চর্চা।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে কাকলির দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত মিলছিল। রবিবার আচমকাই তিনি বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। একসময় দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবেই বিবেচিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্বও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের আগে।
সেই সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই পদ থেকে সরানো হয়। কিন্তু বিধানসভা ভোটে আশানুরূপ ফল না হওয়ার পর ফের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই পুরনো দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয় দল। তারপর থেকেই কাকলির অসন্তোষ বাড়ছিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন : কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের ভাঙনের সুর,পদ ছাড়লেন দুই ‘দাপুটে’ নেতা
শুধু জেলা সভাপতির দায়িত্বই নয়, তৃণমূলের মহিলা সংগঠন এবং বঙ্গ জননী কর্মসূচির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তবে সূত্রের খবর, দলকে তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে আর কোনও দায়িত্ব সামলাতে চান না। ফলে তাঁর এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। তবে কী খুব শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন তিনি, এর উত্তর সময় দেবে।













