আর পথে পথে ভিক্ষা করতে হবে না ! রূপান্তরকামীদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্যে

Published on:

Published on:

Agnimitra Pal's Big announcement for transgenders
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : সমাজের মূল স্রোতে রূপান্তরকামীদের আরও সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করতে একাধিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি থেকে শুরু করে লিঙ্গ পরিবর্তন সংক্রান্ত চিকিৎসা পরিষেবা সহজলভ্য করা—সব দিক নিয়েই ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে নারী ও শিশুকল্যাণ দফতর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল(Agnimitra Pal)। সম্প্রতি বিকাশ ভবনে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন মন্ত্রী।

রূপান্তরকামীদের জন্য বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রার (Agnimitra Pal)

রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রূপান্তরকামীদের বিভিন্ন পেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। দক্ষতা অনুযায়ী তাঁদের উপযুক্ত কাজের সুযোগ করে দেওয়ার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘ওঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যে যেরকম পারবে, সেই কাজের ব্যবস্থা করা। কেউ স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করতে পারেন, আবার কেউ বিউটিশিয়ান হিসেবে রোজগার করতে পারেন।’ শুধু কর্মসংস্থান নয়, লিঙ্গ পরিবর্তনের চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও আরও বিস্তৃত করার ভাবনা রয়েছে সরকারের।

বর্তমানে এই পরিষেবা সীমিত কয়েকটি জায়গাতেই পাওয়া যায় এবং তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলেই অভিযোগ। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘অনেকে লিঙ্গ পরিবর্তন করান, তবে সেটা খরচসাপেক্ষ। সবচেয়ে বড় কথা এই জেন্ডার চেঞ্জ কেবলমাত্র পিজি হাসপাতালেই হয়। আরও সরকারি জেলা হাসপাতালে যাতে এই পরিষেবা চালু করা যায়, সেই আলোচনাও হয়েছে।’ খুব শিগগিরই বিভিন্ন ট্রান্সজেন্ডার সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে করে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা সরাসরি শুনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

রূপান্তরকামীদের জীবনযাত্রার বাস্তব সমস্যার কথাও তুলে ধরে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘আমি ওঁদের সঙ্গে নিজে কাজ করেছি। তাই চাই ওঁদের যাতে ভিক্ষা না করতে হয়।’ মন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশিষ্ট ট্রান্সজেন্ডার সমাজকর্মী রঞ্জিতা সিনহা।

Agnimitra Pal's  Big announcement for transgenders

আরও পড়ুন :রাজ্যের কোষাগার ভরাতে ফের চালু হতে পারে সরকারি লটারি! বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘তোমার মতো সংবেদনশীল নেত্রী পেয়ে সত্যিই আমি খুব গর্বিত। তোমার ছত্রছায়ায় যে কাজ হবে সেটা আমি অনেকদিন ধরেই জানি। সে জন্য তোমার সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রেখেছি এবং তোমার মতামত নিয়েছি। ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটির উন্নয়নে তোমার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।’ দীর্ঘদিন ধরে সমাজের প্রান্তিক অবস্থানে থাকা রূপান্তরকামীদের জন্য সরকারি স্তরে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।