আজ থেকেই ফ্রি বাস পরিষেবা, মহিলা যাত্রীদের জন্য কী কী নির্দেশ দিল পরিবহণ দপ্তর?

Published on:

Published on:

Free bus service in West Bengal, instructions to women passenger
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের (West Bengal) লক্ষ লক্ষ মহিলা যাত্রীর জন্য আজ থেকে শুরু হচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে সোমবার, ১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা চালু করেছে নতুন সরকার। শুধু শহরের সাধারণ বাস নয়, এসি ও দূরপাল্লার সরকারি বাসেও মিলবে এই সুবিধা। প্রথম দিনেই যাতে কোনও বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলা না হয়, তার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে পরিবহণ দপ্তর।

রাজ্যের (West Bengal) মহিলাদের ফ্রি বাস পরিষেবার নির্দেশিকা

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে কলকাতা ও শহরতলি জুড়ে প্রায় ৬০০টি সরকারি বাস পরিষেবায় রাখা হয়েছে। অফিস টাইমে অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাস ও ব্যস্ত রুটগুলিতে পরিবহণ আধিকারিকদের মোতায়েন করা হবে। নতুন নিয়ম কার্যকর করার সময় যাত্রী ও বাসকর্মীদের মধ্যে যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। ভবিষ্যতে প্রত্যেক উপভোক্তার জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড চালু করা হবে। ওই কার্ডে যাত্রীর নাম, ছবি এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কার্ড পাওয়ার জন্য নির্ধারিত আবেদনপত্র বিডিও বা এসডিও অফিসে জমা দিতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে এখনও কয়েক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

স্মার্ট কার্ড চালু না হওয়া পর্যন্ত পরিচয়পত্র দেখিয়েই এই সুবিধা গ্রহণ করা যাবে। আধার, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, সরকারি অফিসের পরিচয়পত্র কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড— যে কোনও বৈধ নথি দেখালেই হবে। যাচাইয়ের পর কন্ডাক্টররা মহিলা যাত্রীদের বিশেষ ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ প্রদান করবেন।

Free bus service in West Bengal, instructions to women passenger

আরও পড়ুন : ৩ জুনের আগে টার্গেট পূরণের নির্দেশ, অন্নপূর্ণা যোজনায় নবান্নের বড় পদক্ষেপ

দপ্তরের এক শীর্ষকর্তার কথায়, “শুরুর দু-তিন দিন নতুন ব্যবস্থা চালু চ্যালেঞ্জিং হলেও, দ্রুতই যাত্রী ও বাসকর্মীরা এই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন।” সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে প্রতিদিনের যাতায়াত খরচ থেকে বড়সড় স্বস্তি পাবেন মহিলারা। প্রথম কয়েক দিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রয়োজনে আরও কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তনও আনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় এটি যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পদক্ষেপ হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।