বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভাঙড়ের রাজনীতিতে ফের বড় ধাক্কা। আইএসএফ-এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানালেন আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। সামাজিক মাধ্যমে দলের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন তিনি। আইএসএফের বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচার’ এবং ‘একনায়কতন্ত্র’-এর অভিযোগ তোলার পাশাপাশি দলের কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধেও গুরুতর মন্তব্য করেছেন আরাবুল।
আইএসএফ ছেড়ে কী লিখলেন আরাবুল (Arabul Islam)?
দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আরাবুল লেখেন, “
“আইএসএফের স্বৈরাচার ও একনায়কতন্ত্রকে আমি ধিক্কার জানাই।” অপর একটি পোস্টে তাঁর আরও অভিযোগ করেন, “আইএসএফের লুম্পেন বাহিনীর হাতে ভাঙড় জুড়ে যেভাবে অত্যাচার-অনাচার নেমে এসেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আমি এই দল থেকে পদত্যাগ করলাম।”
উল্লেখ্য, ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর সঙ্গে আইএসএফের সংঘাত চলছিল। ঠিক সেই সময়ই দল ছাড়ার ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেই বিবাদই এবার প্রকাশ্যে দলত্যাগের রূপ নিল বলে মনে করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল। তবে দল পরিবর্তনের পরও ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদ তাঁর হাতেই ছিল। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান নিয়ে শুরু থেকেই নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছিল।
এর আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনে আরাবুলের নেতৃত্বে ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। ওই বোর্ডে আইএসএফ পাঁচটি আসন দখল করেছিল। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলবদলের জেরে সমীকরণ বদলে যায়। তৃণমূল ছেড়ে একাধিক সদস্য আইএসএফে যোগ দেওয়ার পর সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার উদ্যোগ শুরু হয়।
অনাস্থা প্রস্তাবকে পৌঁছায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্টের নির্দেশে, ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই আইএসএফের সঙ্গে আরাবুলের দূরত্ব আরও বাড়ে। দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন যে গভীর হয়েছে, তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছিল। এবার আর কোনও রাখঢাক না রেখে সরাসরি দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন তিনি।

আরও পড়ুন : মেট্রোযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর! কলকাতায় ‘কবচ’ প্রযুক্তি, কী কী বদল আসছে?
প্রসঙ্গত, আরাবুলের দলত্যাগ ভাঙড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে আপাতত তার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ জানা যায়নি। ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষমতার সমীকরণে এই ঘটনার কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার।














