অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মধ্যেই বড় ধাক্কা! ঋণের জন্য ব্যাঙ্কের দ্বারস্থ টাটা গ্রুপের এই কোম্পানি

Published on:

Published on:

This Tata Group company approaches banks for loan.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপ (Tata Group) বর্তমানে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত। ইতিমধ্যেই টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা, টাটা সন্সের লিস্টিংয়ের বিরোধিতা করে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে চিঠি লিখেছেন এবং কেন এই লিস্টিং হওয়া উচিত নয়, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এদিকে, টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ এখনও বাড়ানো হয়নি। এরই মধ্যে, টাটা গ্রুপের একটি সংস্থা চিনের কাছ থেকে এমন ধাক্কা খেয়েছে যে, তাদের এখন ঋণ নিতে হচ্ছে। বর্তমান প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হল।

ঋণের জন্য ব্যাঙ্কের দ্বারস্থ টাটা গ্রুপের (Tata Group) এই কোম্পানি:

মূলত, টাটা মোটরসের বিলাসবহুল গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের (JLR) আগামী বছর ঋণ পরিশোধের কথা রয়েছে। তবে, সংস্থাটির বিক্রি আশানুরূপ হয়নি এবং ফলাফলও হতাশাজনক। এই কারণেই সংস্থাটি এখন ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মানে হল, টাটার এই কোম্পানি তার পুরোনো ঋণ রিফাইনান্স করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

This Tata Group company approaches banks for loan.

একটি মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, টাটা মোটরসের ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি ইউনিট, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার আগামী বছরের শুরুতে পরিশোধযোগ্য ঋণ রিফাইন্যান্সের জন্য বিভিন্ন দেশের ব্যাঙ্কের গ্রুপের কাছ থেকে ৫ বছর মেয়াদী একটি সিন্ডিকেটেড ঋণের মাধ্যমে ২ বিলিয়ন পাউন্ড (২২,১৭৮ কোটি টাকা) সংগ্রহ করছে।
এদিকে, এই ঋণের সুদের হার স্টার্লিং ওভারনাইট ইনডেক্স অ্যাভারেজ (SONIA)-এর চেয়ে ১৫৫ বেসিস পয়েন্ট বেশি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। SONIA হল UK-র বেঞ্চমার্ক রেট। যা বর্তমানে ৩.৭৩ শতাংশে রয়েছে। যার অর্থ কার্যকর হার হবে প্রায় ৫.২৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন: আরও বাড়বে জ্বালানির দাম! কোথায় পৌঁছবে পেট্রোল-ডিজেলের রেট? সামনে এল রিপোর্ট

এখন প্রশ্ন হল, এই টাটা কোম্পানিকে কেন তার ঋণ রিফাইনান্স করতে হচ্ছে? এর উত্তর হল, মূলত চিনের বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাইবার আক্রমণের কারণে কোম্পানিটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এই হামলার কারণে বাধ্য হয়ে ইউনাইটেড কিংডম, স্লোভাকিয়া, ব্রাজিল ও ভারতে অবস্থিত কোম্পানিটির ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটগুলি এক মাসের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। যা সংস্থাটির সাপ্লাই চেনকে ব্যাহত করে। জানিয়ে রাখি যে, JLR ২০২৬ অর্থবর্ষে তাদের নিট মুনাফায় তীব্র পতন পরিলক্ষিত করেছিল। যা পূর্ববর্তী অর্থবর্ষের ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ড থেকে কমে ১৪ মিলিয়ন পাউন্ডে নেমে আসে। মার্কিন শুল্কের প্রভাব, চিনে চাহিদা হ্রাস এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি সাইবার আক্রমণের কারণে এই পতন ঘটেছিল।

আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ায় হচ্ছে বৈভব সূর্যবংশীর ডেবিউ? চিফ সিলেক্টর অজিত আগরকারকে কী জানাল BCCI?

ব্যাঙ্কগুলি ঋণ দিতে প্রস্তুত: উল্লেখ্য যে, বিগত বেশ কয়েক বছরের মধ্যে এটিই কোম্পানিটির প্রথম এই ধরণের ঋণ ব্যবস্থা। প্রায় ৭ টি ব্যাঙ্ক প্রধান আন্ডাররাইটার হিসাবে কাজ করছে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাঙ্ক, UK-র স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্ক, হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশন, জাপানের মিতসুবিশি ইউএফজে ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ এবং আমেরিকার সিটি ব্যাঙ্ক। জানা যাচ্ছে যে, ব্যাঙ্কগুলির সবাই ফান্ড প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।